তনু হত্যা মামলার আসামির জামিন: ‘জানতেন না’ রাষ্ট্রপক্ষের ৯ আইনজীবী 

কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। কিন্তু ২ আগস্ট দেওয়া সেই জামিনের খবর রাষ্ট্রপক্ষের সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তাদের কেউই জানতে পারেননি। 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় কারাগার থেকে হাফিজুরের মুক্তির পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় নড়েচড়ে বসে অ্যাটর্নি অফিসের কর্মকর্তারা। 

এর আগে গত ২ আগস্ট বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। অন্তর্বর্তী জামিন আদেশের পাশাপাশি হাফিজুর রহমানকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাব্বির হোসেন, মো. মিজানুর রহমান, রেজাউল করিম ও মীর মনিরুজ্জামান। হাফিজুরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন ভূঁইয়া।

জামিনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম জানেন না, তিনি বিষয়টি জানেন না। ওই আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের মোট ৯ জন আইন কর্মকর্তা (ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল) দায়িত্ব পালন করেন। মামলার ফাইল কার কাছে ছিল বা মামলাটি কার দায়িত্বে ছিল, তা তার জানা নেই। 

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাব্বির হোসেন বলেন, “আমি আজই জামিনের বিষয়টি জানতে পেরেছি। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যস্ত থাকায় তার সঙ্গে এখনও আমাদের সাক্ষাৎ হয়নি। সাক্ষাৎ হলে জামিন স্থগিতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 

এর আগে বহুল আলোচিত কুমিল্লার তনু হত্যা মামলায় হাফিজুর রহমানকে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ৫২ বছর বয়সী হাফিজুর সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। 

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। 

তার হত্যার ঘটনায় করা মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। হাফিজুর রহমানের গ্রেফতারের পর মামলাটি আবারও আলোচনায় আসে।