ঢাকার দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলিতে দন্তচিকিৎসক সারা রোকসানা পিনুকে খুনের মামলায় জুতার ছাপের সূত্র ধরে গ্রেফতার স্বামী সোহেল রানাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুই দিনের রিমান্ড শেষে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই হাবিবুর রহমান।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বকর সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সোহেল রানার পক্ষে জামিনের আবেদন কেউ ছিল না বলে জানান তিনি।
আবেদনে বলা হয়, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। স্থানীয় তদন্তে ঘটনাস্থল ও আশপাশের লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামির স্ত্রীর একটি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের বিষয়ে আসামি তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় নিষেধ করে। তবে তার স্ত্রী তা মানতেন না।
আরও বলা হয়, পিনুর বোন ও বোনের মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পিনু প্রায়ই তাদের বলতো, তার স্বামী সোহেল রানা অনেক মেয়েদের সাথে বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিল। পিনু তার স্বামীকে এ বিষয়ে নিষেধ করলে, সে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করে মেরে ফেলবে মর্মে প্রায় সময় হুমকি দিত।
ঘটনার কিছুদিন আগে পিনু তার বড় বোন সারা সুলতানা পলিকে ফোনে বলেছিল, ‘আপা, আমি যদি কোনও দিন মারা যাই, তাহলে বুঝবে আমার স্বামী সোহেল রানা আমাকে মেরে ফেলেছে। তুমি নিজে বাদী হয়ে থানায় মামলা করবে এবং আমার স্বামীকে কোনও প্রকার ছাড় দিবে না। এছাড়াও আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনা সংক্রান্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’’
মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকর্তা।
গেল বৃহস্পতিবার দক্ষিণখানের বাসা থেকে দন্ত চিকিৎসক সারা রোকসানা পিনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পিনুর লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ বলেছিল, বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে হত্যা করে এবং ঘরের জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। তবে জানালার যে অংশে গ্রিল কাটা হয়, সেই জানালার ভেতরের অংশের বারান্দায় একটি জুতার ছাপ পান সিআইডির সদস্যরা। এরপর বাসায় পাওয়া একজোড়া জুতার ছাপের সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায়। ওই জুতা ছিল সোহেল রানার।
পিনুকে খুনের ঘটনায় তার বোন সারাহ সুলতানা পলি শুক্রবার অজ্ঞাতদের আসামি করে এ মামলা করেন।
ওই হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্তে নেমে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয় নিহত সারাহ রোকসানা পিনুর স্বামী সোহেল রানাকে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে সোহেল রানা পিনুকে একা বাসায় রেখে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অফিসে যায়। কেউ আনতে না যাওয়ায় বিকালে ওয়ামী বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে দেখে ঘরের দরজা খোলা, তবে চাপানো।
এজাহারে বলা হয়, ওয়ামী দেখতে পায় তার মা খাটের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। তার মুখের উপর বালিশ রাখা। মাকে ডাকাডাকি করে। কোনও শব্দ না পেয়ে মুখের উপর থেকে বালিশ সরিয়ে দেয়। মায়ের হাত-পা ঠান্ডা ও শ্বাস বন্ধ আছে বুঝতে পেরে বাসা থেকে স্কুলে যায়। প্রিন্সিপালের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবাকে ঘটনা জানায়।