বিশেষভাবে তৈরি জ্যাকেটে ফেনসিডিল পাচার করতো তারা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে বিশেষভাবে তৈরি জ্যাকেটে ফেনসিডিল পাচার করতো একটি চক্র। জ্যাকেটগুলো এমনভাবে তৈরি, যাতে বাইরে থেকে সাধারণ পোশাক বলেই মনে হয়। প্রতিটি জ্যাকেটের ভেতরে একাধিক গোপন চেম্বার ছিল, যেখানে ৫০ থেকে ৬০ বোতল পর্যন্ত ফেনসিডিল বহন করা সম্ভব হতো।

বুধবার (৫ আগস্ট) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান এসব তথ্য জানান।

এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ওই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিএনসি। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো, নাসিরুল ইসলাম (৪৮), ফাহিম আজাদ (২৭), জুলেখা খাতুন (৩২) ও  শারমিন খাতুন (৩২)। তাদের কাছ থেকে ৩০৯ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, মঙ্গলবার গোপন তথ্যে জানা গেছে, কয়েকজন মাদক কারবারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ন্যাশনাল ট্রাভেলস ও দেশ ট্রাভেলসের দুটি যাত্রীবাহী বাসে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল নিয়ে ঢাকায় আসছে। ওই তথ্যে গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি বিশেষ দল রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় কস্তুরী রেস্টুরেন্টের সামনে অবস্থান নেয়।

নির্ধারিত সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা ন্যাশনাল ট্রাভেলসের বাসটি সেখানে পৌঁছালে সেটি থামানো হয়। তিন জন সন্দেহভাজন যাত্রীকে আটক করা হয়। পরে তাদের ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেনসিডিল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

পরে দেশ ট্রাভেলসের আরেকটি বাস একই স্থানে পৌঁছালে সেটি থামিয়ে এক যাত্রীকে আটক করা হয়। তার দেহে বিশেষভাবে তৈরি করা একটি জ্যাকেট তল্লাশি করে এসকাফ সিরাপ ও ফেয়ারডাইল সিরাপ ব্র্যান্ডের ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

মাদক পাচারের কৌশল সম্পর্কে ডিএনসির এই কর্মকর্তা জানান, চক্রটি গত তিন থেকে চার বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নিয়মিত ঢাকায় ফেনসিডিল সরবরাহ করছিল।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে মাদক পরিবহনের সময় তারা ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতো। পাশাপাশি একাধিক রুট ও যাত্রীবাহী বাস ব্যবহার করতো এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনক্রিপটেড অ্যাপ ব্যবহার করতো।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিকরা জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এসকাফ সিরাপ ও ফেয়ারডাইল সিরাপ নামে পরিচিত কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেনসিডিলের অবৈধ ব্যবসা করছিল। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। পারস্পরিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত মাদক পাচার নেটওয়ার্ক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করার কথা জনিয়ে উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য, অর্থদাতা, মাদকের সরবরাহকারী এবং সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান ও তদন্ত চলছে।