শ্যামনগরবাসীর নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিতে হাইকোর্টের রুল, অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী এবং সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসককে শ্যামনগর উপজেলাবাসীর সুপেয় পানি সরবরাহের বিষয়ে রাষ্ট্রের গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন ৬০ দিনের মধ্যে হলফনামা আকারে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৯ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারী সংস্থার পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. কাওছার, মাকসুদুর রহমান এবং মারুফ হাসান তমাল।

এর আগে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মো. কাওছার এবং আইনজীবী মারুফ হাসান তমাল আইনি নোটিশ পাঠান।

নোটিশটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক এবং সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হয়।

পরবর্তী সময়ে একই কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করে শ্যামনগরবাসীর নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়।

শুনানিতে বলা হয়, নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার অধিকার সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের আলোকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের অংশ এবং এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

রিটে উল্লেখ করা হয়, শ্যামনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকট চলছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে অধিকাংশ নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রতি বছর এপ্রিল থেকে জুলাই মাসে এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

এলাকার অনেক মানুষ নিরাপদ পানির জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। নারী ও শিশুরা পানি সংগ্রহের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করছেন। ধুমঘাট এলাকার বাসিন্দা শেফালি রানী মণ্ডলের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, তিনি প্রতি দিন কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে এবং নদী সাঁতরে পানি সংগ্রহ করেন। এতে পারিবারিক জীবন, শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রতি বছর একই সময়ে সংকট তীব্র হওয়ার বিষয়টি জানা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার পরিচায়ক।

এই প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার পল্লব বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, ইতোপূর্বে সুপেয় পানি পাওয়ার অধিকারকে সাংবিধানিক এবং মৌলিক অধিকার দাবি করে কোনও মামলা দায়ের হয়নি। এই মামলাটি দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জীবনধারণের মৌলিক প্রয়োজনের নিশ্চয়তা বিধানে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে। ভবিষ্যতে যেকোনও নাগরিক সুপেয় পানি হতে বঞ্চিত হলে সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন।