জাতীয়করণকৃত দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৯০ জন প্রভাষককে প্রাপ্ত নবম গ্রেড স্কেলে বেতন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে দায়ের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি কে. এম. হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মাওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মো. আতিউর রহমান, অ্যাডভোকেট মো. হারুনুর রশীদ ও অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল রাফি। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জে আর খান রবিন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৯০ জন প্রভাষক জাতীয়করণের আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নবম গ্রেডের বেতন পেতেন। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের পর তাদের গ্রেড কমিয়ে দশম গ্রেড করা হয়। এতে তাদের চাকরির অধিকার ও আর্থিক সুবিধা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগে তারা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
রিটের শুনানিতে আইনজীবী মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া আদালতকে জানান, জাতীয়করণের আগে এসব শিক্ষক সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নবম গ্রেডের বেতন পেতেন। কিন্তু জাতীয়করণের পর তাদের গ্রেড কমিয়ে দশম গ্রেড করা হয়েছে। ফলে তারা চাকরির অধিকার ও সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকারের দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এর আগে একই বিষয়ে ২০২৪ সালের ১১ জুলাই হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ ৪৫ জন প্রভাষকের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। তবে আজকের রায়ে হাইকোর্ট ৬৯০ জন রিটকারীর জাতীয়করণের আগে প্রাপ্ত নবম গ্রেড স্কেলে বেতন প্রদানের নির্দেশ দিয়ে রিটের নিষ্পত্তি করেন।
রিটকারীদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ হাফিজ আহমেদ, মির্জা সারোয়ার উদ্দীন আহমেদ, মো. মোফেসদুর রহমান, মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ ফারুক আহমেদসহ অন্যান্য প্রভাষক।
রায়ের পর রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, ‘‘জাতীয়করণকৃত শিক্ষকরা যে বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন, আজকের রায়ের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন এবং তাদের অধিকার ফেরত পেয়েছেন।’’
তিনি দ্রুত আইন সংশোধনের মাধ্যমে বেতন-ভাতাসহ জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের অন্যান্য সমস্যার সমাধান এবং হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন। আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।