রাজধানীতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

রাজধানীর শাহজাহানপুর থানা এলাকায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী রুবেল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শাহজাহানপুর থানার পুলিশের সূত্র জানায়, প্রায় ১১ বছর আগে পারিবারিকভাবে স্বপ্না খাতুন আক্তারের সঙ্গে রুবেল মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। রুবেল মিয়া মাদকাসক্ত এবং বর্তমানে বেকার। দাম্পত্য কলহের জেরে স্বপ্না খাতুন আক্তার এর আগে রুবেল মিয়াকে দুইবার ডিভোর্সের নোটিশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে রুবেলের অনুরোধে তারা পুনরায় সংসার শুরু করেন।

গত ৭ আগস্ট  রুবেল মিয়া তার স্ত্রীকে মারধর করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৮ আগস্ট রাতে শাহজাহানপুর থানার গুলবাগের ভাড়া বাসায় পারিবারিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এ সময় রুবেল তার স্ত্রীকে আর মারধর করবেন না বলে জানান। ওই রাতেই পুনরায় তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয় এবং বাসার কিছু হাঁড়ি-পাতিল ভাঙচুর করা হয়।

পরদিন ৯ আগস্ট সকালে ভিকটিম স্বপ্না খাতুন ভাঙা জিনিসপত্র দেখতে পেয়ে রুবেলকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন। এ কারণে রুবেল তার স্ত্রীকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান।

একই দিন দুপুর ১২টার দিকে ভিকটিমের এক আত্মীয় ওই বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করে কোনও সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি খাটের ওপর স্বপ্না খাতুনের মরদেহ দেখতে পান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ওয়াহেদ আলীর অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজাহানপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় শাহজাহানপুর থানা পুলিশ আসামি রুবেল মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করে। ৯ আগস্ট রাতে শাহজাহানপুরের আমতলা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত রুবেল মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীকালে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।