সাভারে নাশকতার পরিকল্পনা ও চেষ্টার অভিযোগে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার চিফ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে সাভার থানার পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নূরে মোহাম্মদ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বাহাজ উদ্দিন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ১১ আগস্ট বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছিল সিটিটিসি। গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা বিস্ফোরক দ্রব্যসহ নাশকতার উদ্দেশ্যে সাভারের ট্যানারি শিল্প এলাকায় অবস্থান করছে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে সাভারের বিসিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যানারি এস্টেটের পশ্চিম দেয়ালসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করা কয়েকজনের দিকে পুলিশ এগিয়ে গেলে অন্যরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে আরিফ ওরফে ইমরানকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, আটকের পর আরিফের দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম, একটি পাইপ বোমা তৈরির স্টিল পাইপ, চাপাতি, সুইচ গিয়ার নাইফ, ব্যাটারি ও একটি নকিয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে একটি বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু ঘটনাস্থলেই নিষ্ক্রিয় করা হয় বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পরে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে বিভিন্ন ধরনের তরল রাসায়নিক, রাসায়নিক পাউডার, পটাশিয়াম নাইট্রেট, বারুদ মিশ্রিত কটন বার, বৈদ্যুতিক তার, ডেটোনেটর, রিমোট ও কন্ট্রোলার, পাইপ বোমার ধ্বংসাবশেষ, বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং জিহাদসংক্রান্ত কয়েকটি বই উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ নিজেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে দাবি করেছেন। একইসঙ্গে অন্য কয়েকজনের নাম-ঠিকানা এবং সংগঠনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য দিয়েছেন বলেও পুলিশ দাবি করেছে।
পুলিশের তথ্যে, আরিফ ও তার সহযোগীরা নব্য জেএমবির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতি, জননিরাপত্তা বিপন্ন এবং দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে নাশকতার পরিকল্পনা ও চেষ্টা করছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, ঘটনার মূলহোতা, অর্থদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত, পলাতক আসামিদের অবস্থান নির্ণয় এবং অজ্ঞাতনামা জড়িতদের শনাক্ত করতে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ছয় দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।