ডিএসই’র এজিএম নাসিরের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এজিএম নাসির উদ্দিন রেজার বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ডিএসইর সদ্য চাকরিচ্যুত ওই নারী খিলক্ষেত থানায় বুধবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে ডিএসই’র মনিটরিং বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন তার তৎকালীন সরাসরি সুপারভাইজার নাসির রেজা তার সামাজিক অবস্থান (সিঙ্গেল মাদার) ও সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্ত করা শুরু করেন। অসময়ে বার্তা পাঠানো, ভিডিও কল দেওয়া এবং পরোক্ষ ইঙ্গিত দেওয়ার পর একপর্যায়ে অফিস ক্যান্টিনের সামনে তাকে সরাসরি অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়।

‎বিষয়টি তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান (বর্তমানে অ্যাক্টিং সিআরও) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বাধ্য হয়ে তৎকালীন সিআরও জিয়াউল হাসান খানের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানালে তিনি ঘটনার সত্যতা বিবেচনা করে নাসির রেজা ও শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে ডেকে সতর্ক করেন। ‎এরপর থেকে নাসির রেজা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

ওই নারী অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, এরপর নাসির রেজা প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনিক সহায়তায় মানবসম্পদ বিভাগে (এইচআর) বদলি হয়ে আসেন।

অভিযোগকারীর দাবি, সেই পদের সুযোগ নিয়ে কোনো কারণ দর্শানো বা সতর্কবার্তা ছাড়াই কেবল প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ছাঁটাই তালিকায় তার নাম যুক্ত করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে ঢাকা শহরে সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে আমার চাকরিটিই ছিল একমাত্র সম্বল। কাজের কোনো ত্রুটি ছাড়া কেবল কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা মানবধিকার ও শ্রম আইনের চরম লঙ্ঘন।’

‎তিনি অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, মানবিক ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে চাকরি পুনর্বহাল এবং ডিএসইতে নারী কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ডিএসইতে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় অন্যায্য চাকরিচ্যুতির অভিযোগ; স্বপদে পুনর্বহাল ও বিচারের দাবিতে সিএমজেএফ ও বিএসইসির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

‎তিনি বলেন,‎ কর্মজীবনে তার বিরুদ্ধে কাজ বা শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোনো অনিয়ম কিংবা গাফিলতির অভিযোগ ছিল না। ডিএসই কর্তৃপক্ষও কখনো তাকে কোনো নোটিশ বা সতর্কবার্তা দেয়নি।

এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন রেজাকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়া হয়। তিনি দেখলেও কোনো মন্তব্য করেননি।

এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ সোহরাব আল হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ওই নারী থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন। তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।