সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা এবং তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
আসক মনে করে, শাপলা চত্বরের ঘটনায় প্রাণহানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। একইসঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) আসকের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আসক মনে করে, কোনও গুরুতর অপরাধের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা ও দায় যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে কোনও ঘটনার সংবাদ প্রকাশ বা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে সেই অপরাধের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কিনা, সেটিও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং কোনও অপরাধে অংশগ্রহণ বা সহায়তার বিষয় এক নয়। তাই এ দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করা সমীচীন।
বিবিৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল হক বাবুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
১৫ জুলাই দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো সাংবাদিকতার পেশাগত ও সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।
আসক আরও মনে করে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আইনের শাসন, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা জরুরি।
অভিযোগের গুরুত্ব কোনোভাবেই অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে খর্ব করতে পারে না। বিচারাধীন কোনও বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থি।
ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল হক বাবুর বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগতভাবে পরিচালিত হয় এবং তাদের আইনি অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়-সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আসক।