ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুর ঘাটে ইজারাদারের এক কর্মীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চড়-থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগাস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসক বলছে, বুধবার (১২ আগস্ট) কালীরবাজার এলাকায় মোবাইল কোর্ট অভিযানের সময় ত্রিশালের ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী ইজারাদারের এক ব্যবস্থাপককে (ম্যানেজার) পরপর দুটি থাপ্পড় মারেন এবং পরে লাঠি দিয়েও তাকে আঘাত করেন। পরে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
আসক মনে করে, আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা একজন সরকারি কর্মকর্তার হাতে একজন নাগরিকের এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনো ব্যক্তি আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে সন্দেহ হলেও তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্যেই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আইন প্রয়োগের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ কারও নেই।
মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯-এর কোনো বিধানেই কোনো ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড়, লাঠিপেটা বা শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে আসক বলছে, মোবাইল কোর্ট আইনে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বিচার এবং আইনে নির্ধারিত শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করা বা লাঞ্ছিত করা সেই ক্ষমতার অংশ নয়।
একজন সরকারি কর্মকর্তা যখন রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকেন, তখন তার আচরণে আইনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সংযম প্রতিফলিত হওয়ার কথা। তার হাতে অর্পিত ক্ষমতা নাগরিককে অপমান বা শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা নয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
এ অবস্থায় আসকের প্রশ্ন, কোন আইনি এখতিয়ারের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ইউএনও একজন নাগরিককে চড় মারলেন এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করলেন? মোবাইল কোর্টের কোন বিধান তাকে এ ধরনের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে? এমন কোনো আইনগত ক্ষমতা না থাকলে এ ধরনের আচরণকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত হওয়া জরুরি। শুধু ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় না থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ঘটনার তদন্ত করা। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণ করে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।









