ঢাকার যানজটের কারণ শুধু সড়কে গাড়ির চাপ নয়। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও রাস্তা দেবে যাচ্ছে, কোথাও উন্নয়নকাজের জন্য সংকুচিত হয়ে পড়ছে সড়ক। এর পাশাপাশি ‘হত্যার বিচার’, ‘চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি’, কারও পদত্যাগ কিংবা গ্যাসসংকটের মতো নানা দাবিতে সড়ক অবরোধ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির জন্য রাস্তার ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে মঞ্চ। এসবের কোনও একটি ঘটলেই ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অচল হয়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ছে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের জুলাই ও আগস্ট মাসের দুটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে জুলাই মাসে রাজধানীতে তীব্র যানজট সৃষ্টির ২১টি ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৬টি ঘটনায় আন্দোলনকারী, স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা যানবাহনের চালকেরা সড়ক বন্ধ বা দখল করেছিলেন। বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনা পাঁচটি। একটি ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশকেই সড়ক বন্ধ করতে হয়েছে।
তবে এই ২১টি ঘটনাকে ২১টি স্বতন্ত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একই দাবি বা কর্মসূচির কারণে একাধিক মোড় বন্ধ হওয়ার প্রতিটি ঘটনাকে আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ কয়েকটি সংকট একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ছড়িয়ে পড়ে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে অচল করে দিয়েছে।
দুই দিনেই ১০ কারণ
জুলাইয়ের পৃথক আট দিনে এসব ঘটনা নথিভুক্ত করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ১৪ ও ১৫ জুলাই। দুই দিনেই তালিকাভুক্ত হয়েছে ১০টি।
১৪ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিএনএস টাওয়ার ও আশপাশের সড়ক, সায়েন্সল্যাবের উত্তর পাশ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে এবং আইসিবি ইনকামিং সড়ক বন্ধ করে দেন। একই দাবিতে পরদিন বিএনএস সেন্টারের ইনকামিং ও আউটগোয়িং সড়কও বন্ধ করা হয়।
১৫ জুলাই আইসিবি চত্বর ও গুলশান-১ এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। শাহবাগ মোড়ের মাঝখানে দাঁড়িয়েও রাস্তা বন্ধ করে দেন পরীক্ষার্থীরা। একই দিনে নিরাপত্তার কারণে সচিবালয়ের সামনে আবদুল গণি রোডের ইনকামিং ও আউটগোয়িং সড়ক বন্ধ করে দেয় ডিএমপির ক্রাইম কন্ট্রোল বিভাগ।
তথ্য অনুযায়ী, শুধু শিক্ষা-সম্পর্কিত দাবি ও পরীক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে দুই দিনে নয়টি স্থানে তীব্র যানজট হয়। একটি কর্মসূচি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ছড়িয়ে পড়লে সেটি আর স্থানীয় সমস্যা থাকে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
দাবির ধরন আলাদা, ফল একই
ডিএমপির ট্রাফিক পুলিশের প্রতিবেদনে জুলাইয়ের প্রথম ঘটনাটি ৪ জুলাইয়ের। মিরপুর-১০ এলাকায় আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত ঘটনায় বিচারের দাবিতে স্থানীয় লোকজন রাস্তা বন্ধ করে দেন। পরদিন বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের সামনে একটি অটোরিকশা ডাম্পিং করার সময় প্রতিবাদে সড়ক বন্ধ করেন অন্য অটোরিকশাচালকেরা।
১২ জুলাই ইউবিএল ক্রসিং এলাকায় করোনার সময়ে শিক্ষাজীবন শেষ করা চাকরিপ্রার্থীরা সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে রাস্তা বন্ধ করেন। ২২ জুলাই গ্যাসসংকটের প্রতিবাদে সিএনজিচালকেরা খিলক্ষেত থানার সামনে এবং লা মেরিডিয়ানের সামনের আউটগোয়িং সড়ক অবরোধ করেন। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ছাত্র ফেডারেশনের কর্মীরা সড়কে চেয়ার-টেবিল রেখে কর্মসূচি পালন করেন।
এসব ঘটনায় দেখা যায়, নাগরিক বা প্রশাসনিক সমস্যার সমাধানের কার্যকর পথ পাওয়া না গেলে তার চাপ গিয়ে পড়ছে সড়কের ওপর। দাবি আদায়ে রাস্তা বন্ধ করা দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণের কৌশল হলেও এর মূল্য দিতে হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সের রোগী, অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, গণপরিবহনের যাত্রী ও জরুরি সেবাগুলোকে।
বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতাও বড় কারণ
রাজনৈতিক ও নাগরিক কর্মসূচির বাইরে জুলাইয়ে যানজটের বড় কারণ ছিল বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা। ১২ জুলাই সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে যায়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারওয়ান বাজার অংশের নিচে এবং বনানী, খিলক্ষেত, ঢাকা গেটসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
একই দিন অতিবৃষ্টিতে নারিন্দা ক্রসিংয়ে সড়কের চার থেকে পাঁচ ফুট অংশ দেবে যায়। এতে বড় যানবাহন ওই সড়ক দিয়ে চলতে পারেনি। পরদিন আইসিবি চত্বর ক্রসিংয়ে প্রায় তিন ফুট পানি জমে। পল্লবী থানা থেকে প্রায় ৩০০ গজ সামনে আইসিবি চত্বরের দিকে যাওয়ার সড়কেও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে কলশী বস্তির বাসিন্দারা সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেন।
এই জলাবদ্ধতা দুইভাবে যানজট তৈরি করেছে। প্রথমে পানি জমে যানবাহনের গতি কমিয়েছে, পরে দুর্ভোগের প্রতিবাদে সড়ক বন্ধ করায় সংকট আরও বেড়েছে।
আগস্টেও একই চিত্র
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ চলতি আগস্ট মাসে সড়কে যানজটের ২০ কারণ চিহ্নিত করে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেই প্রতিবেদনেও যানজটের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, নানা দাবিতে সড়ক অবরোধসহ জলাবদ্ধতা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সড়কে মঞ্চ তৈরিসহ লোকসমাগম হওয়ায় যাত্রাবাড়ীর পপুলার হাসপাতালের সামনে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। একই দিনে পানি না থাকার কারণে বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করলে মিরপুর-১০ নম্বরে যানজটের সৃষ্টি হয়।
১২ আগস্ট যুব দিবস উপলক্ষে র্যালি বের করলে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কসহ মৎস্য ভবন ও কাকরাইল ক্রসিংয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ৯ আগস্ট সহপাঠী বাস চাপায় নিহত হওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা উত্তরার রাজলক্ষ্মী ও বিএনএস সেন্টারের সামনে এবং রমনা ডিসি ক্রাইম কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। একই দিনে সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে হাইকোর্ট ক্রসিংয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়।
৮ আগস্ট সরকারদলের অনুষ্ঠানের কারণে মঞ্চ তৈরির জন্য যাত্রাবাড়ী এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ৬ আগস্ট মুক্তাঙ্গনে ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রচুর লোকসমাগম হওয়ায় গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এর আগের দিন ৫ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচির কারণে জিরো পয়েন্ট থেকে বায়তুল মোকাররম পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ৪ আগস্টও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সড়কে অবস্থানের কারণে জিরো পয়েন্ট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
১ আগস্ট একই দলের লোকজন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাস্তা বন্ধ করলে মহাখালীর কলেরা হাসপাতালের সামনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। একই দিন একই দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন মিছিল নিয়ে জড়ো হওয়ায় বায়তুল মোকাররম এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
‘প্রতিদিনের কারণ ভিন্ন’
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাজধানীর কোথায়, কখন এবং কী কারণে যানজট হচ্ছে, তিনি প্রতিদিন তার প্রতিবেদন রাখছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের যানজটের কারণ এক নয়। কয়েক দিন আগে সন্ধ্যায় ভারী বৃষ্টিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো শহরের যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কখনও হল দখলকে কেন্দ্র করে ঘটনা ঘটছে, কখনও সায়েন্স ল্যাব, সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজ এলাকায় সংঘর্ষ হচ্ছে। ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের প্রভাবও সড়কে পড়েছে। আবার একদিন সন্ধ্যায় ব্যাংক এশিয়ায় আগুন লাগার কারণেও যানজট হয়েছে।’
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বাইরে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনাই যানজটের বড় কারণ দাবি করে আনিছুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিনের যানজটের পেছনে আলাদা ঘটনা রয়েছে। এসব যানজট ট্রাফিকের কারণে হচ্ছে না। অন্য ঘটনার প্রভাব হিসেবে হচ্ছে। কোনও ঘটনায় হঠাৎ সড়ক বন্ধ হয়ে গেলে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে সবকিছু স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।’
সড়কের ওপর মঞ্চ নির্মাণ ও কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দয়াগঞ্জ, কুড়িল বিশ্বরোড ও প্রগতি সরণিতে রাস্তার ওপর মঞ্চ দেখা গেছে। কে বা কোন উপলক্ষে মঞ্চ তৈরি করেছে, সেটি নয়। মূল প্রশ্ন হচ্ছে, সড়কের ওপর মঞ্চ করা হবে কেন। সড়ক বন্ধ করে কর্মসূচি করলে তার প্রভাব পুরো এলাকার যান চলাচলে পড়ে।
খোঁড়াখুঁড়িতে অর্থ ও কাজের সমন্বয় নেই
প্রগতি সরণিতে মেট্রোরেলের জন্য ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং ধানমন্ডিতে ওয়াসার কাজের উদাহরণ দিয়ে আনিছুর রহমান বলেন, চারদিকে সড়ক বন্ধ বা সংকুচিত করে দেওয়ার পর যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, শুধু বিভিন্ন সংস্থার কাজের সময়সূচি মেলালেই এই সমস্যার সমাধান হবে না; অর্থায়নও একই পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের সড়ক খনন নীতিমালা রয়েছে। এতে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সেবা সংস্থাগুলোর কাজের সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শুধু কাজের সমন্বয় করলেই হবে না, অর্থেরও সমন্বয় করতে হবে। কোনও সংস্থা সময়মতো অর্থ না পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারে না।’
অর্থছাড়ে বিলম্বের কারণে জুনের শেষ দিকে একসঙ্গে উন্নয়নকাজের চাপ তৈরি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরাদ্দ দ্রুত ব্যয়ের চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এর সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকবল, যন্ত্রপাতি ও আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতি যুক্ত হলে কাজ শুরু করেও নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায় না।
সমাবেশের জন্য নীতিমালা প্রয়োজন
সভা-সমাবেশকে গণতান্ত্রিক অধিকার উল্লেখ করে অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, কোথায় কর্মসূচি করা যাবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। সড়কের পাশে না করে পূর্বাচলের মতো পর্যাপ্ত জায়গায় বড় সমাবেশ আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, “সড়ক পরিকল্পনা ও নকশার সময় সভা-সমাবেশ বা মিছিলের প্রভাব বিবেচনা করা হয় না। সড়ক তৈরি করা হয় স্বাভাবিক যানবাহনের চাপ মাথায় রেখে। তাই সভা-সমাবেশের কারণে তৈরি অতিরিক্ত চাপের পুরো দায় ট্রাফিক পুলিশের ওপর দেওয়া সঠিক হবে না।”
অতিরিক্ত কমিশনার আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, এখন থেকে কোন সড়ক কতক্ষণ ও কী কারণে বন্ধ ছিল, তা উল্লেখ করে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন তৈরি করা হবে এবং সেই প্রতিবেদন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে।
জুলাইয়ের ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, ঢাকার যানজট সব সময় সড়কে শুরু হয় না। নাগরিক সমস্যার সমাধান না হওয়া, কর্মসূচি ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি, অর্থায়নে বিলম্ব এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যর্থতা—সবকিছুর চাপ শেষ পর্যন্ত সড়কে এসে পড়ে। একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বন্ধ হলে তার মূল্য দিতে হয় পুরো নগরবাসীকে।