গাড়ি পোড়ানোর মামলায় মেজর সাদিককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন নাকচ

রাজাধানীর ভাটারায় প্রাইভেটকার পোড়ানোর ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হক সাদিককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। অন্যকোনও মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

রবিবার (১৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

সাদিকের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন বলেন, ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় সাদিক উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। এরপর তাকে বসুন্ধরায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। আদালত সেই আবেদন নাকচ করেছেন। ফলে অন্যকোনও মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।

সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত সাবেক মেজর সাদিককে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর সামরিক আদালত তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।

২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বসুন্ধরা এলাকায় একটি প্রাইভেটকার পোড়ানোর ঘটনায় সাদিককে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখাতে গত ৭ আগস্ট আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই চাঁদ আলী।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে ওই গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। তদন্তে এ ঘটনায় সাদিকের ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা’ পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য গত সোমবার দিন ধার্য করেন। ওই দিন সাদিককে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, ঘটনার সময় সাদিক কারাগারে ছিলেন। তাই কারাগারে থাকা অবস্থায় কীভাবে তিনি গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িত হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে কারাগারে থাকা অবস্থায় কীভাবে সাদিক মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত হলেন, সে বিষয়ে ভাটারা থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চান আদালত। রবিবার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে লিখিত ব্যাখ্যা দেন।

লিখিত ব্যাখ্যায় বলা হয়, তদন্তে সাবেক মেজর সাদিকের সেনাবাহিনীতে চাকরির সময় ২০২৫ সালের ৩ থেকে ৮ জুলাই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কাছাকাছি কেবি কনভেনশন হলের দ্বিতীয় তলায় একটি হলরুমে ‘গোপন সভা’ আয়োজনের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা ওই সভায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সেখানে সংগঠনের কার্যক্রম চালু রাখা, সমর্থকদের উৎসাহিত করা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় গত বছরের ১৩ জুলাই ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তদন্তে পাওয়া আসামি হিসেবে সাদিক বর্তমানে কারাগারে ছিলেন।

তদন্ত কর্মকর্তার লিখিত ব্যাখ্যায় আরও দাবি করা হয়, সাবেক মেজর সাদিক ‘প্রধান প্রশিক্ষক ও কানেক্টর’ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে গোপন সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করেছেন। এসব আয়োজনের মধ্যে রূপগঞ্জের পূর্বাচল এলাকার একটি রিসোর্ট, কাঁটাবনের একটি রেস্টুরেন্ট, মিরপুর ডিওএইচএস, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর এবং আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে প্রিয়াংকা সিটিতে তার ফ্ল্যাটের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, এসব সভা ও প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কয়েকজন পরে গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ গ্রেপ্তার না হলেও এসব আয়োজনের মাধ্যমে পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।

লিখিত ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, সাবেক মেজর সাদিকের নির্দেশনা, অর্থায়ন ও মদদে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরবর্তী সময়ে মামলার ঘটনাস্থলে গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। তদন্তে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনার সঙ্গে সাদিকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করা হয়।

আদালত তদন্ত কর্মকর্তার লিখিত ব্যাখ্যা পর্যালোচনা শেষে সাদিককে ওই মামলায় গ্রেফতার না দেখানোর আদেশ দেন।