এক চিকিৎসকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতার দুজন হলেন—শাহীনুর রহমান শাহিন (৫০) ও সঞ্জয় গুপ্তা (৩১)। শাহীনুর রহমান একটি মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার এবং সঞ্জয় গুপ্তা একই প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।
সিআইডি জানায়, ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর যশোর শহরের মুজিব সড়কের একটি শোরুমে পোশাক কেনার সময় ব্যাংকের ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ড দিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন ওই চিকিৎসক। কার্ড ব্যবহারের সময় জটিলতা দেখা দেওয়ায় লেনদেন সম্পন্ন হতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে।
এর ১০ দিন পর, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অপরিচিত একটি মোবাইল নম্বর থেকে চিকিৎসকের কাছে ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান, তার ক্রেডিট কার্ড সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কার্ডটি পুনরায় সচল করার কথা বলে ফোনকারী চিকিৎসকের কাছ থেকে বিভিন্ন কার্ড-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেন।
এর কিছুক্ষণ পর সাতটি পৃথক লেনদেনের মাধ্যমে চিকিৎসকের অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা ছয়টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) নম্বরে স্থানান্তর করা হয়।
পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ২০২৩ সালের ২১ মার্চ যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ওই চিকিৎসক।
মামলাটির তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আগে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের জবানবন্দির ভিত্তিতে চক্রটির অন্য সদস্যদের বিষয়ে তথ্য পায় সিআইডি। এরই ধারাবাহিকতায় শাহীনুর রহমান শাহিন ও সঞ্জয় গুপ্তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, শাহীনুর রহমান একটি মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় তার অধীন ব্র্যান্ড প্রমোটারদের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট একাধিকবার সংগ্রহ করে একাধিক সিম নিবন্ধন করাতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। একটি সিম প্রকৃত গ্রাহকের কাছে দেওয়ার পর অতিরিক্ত ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে নিবন্ধিত অন্য সিমগুলো শাহীনুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হতো।
পরে এসব সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হতো। সিম ও এসব অ্যাকাউন্টের তথ্য কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো। এরপর সেগুলো বিকাশ প্রতারণা, ক্রেডিট কার্ড প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অপরাধে ব্যবহার করা হতো বলে তদন্তে জানতে পেরেছে সিআইডি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীনুর রহমান শাহিন ও সঞ্জয় গুপ্তা মামলার ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং একই কৌশলে আরও কেউ প্রতারণার শিকার হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।