ঢাকার বনানীতে ভাগ্নির বিয়ের কথা বলে প্রায় ৫৭ লাখ টাকার জাল নোট দিয়ে গহনা কেনার চেষ্টাকালে গ্রেফতার মো. রুবেল আহম্মেদ ফকির (৪৬)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার (৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাকিবুল হাসান রিমান্ডের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই মো. জুম্মান খান আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তবে আসামির পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন না বলে জানিয়েছেন এসআই মোক্তার হোসেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জাল টাকার বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি। তাই জাল টাকা উৎপাদন ও সরবরাহের মূল উৎস চিহ্নিতকরণ, পলাতক আসামিকে গ্রেফতার এবং এই চক্রের অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। সিডিএমএস তথ্য পর্যালোচনায় জানা যায়, গ্রেফতার আসামি রুবেল আহম্মেদ ফকির একজন পেশাদার জাল নোট চক্রের সদস্য। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর মুগদা, শাহজাহানপুর, পল্টন, গুলশান, উত্তর পশ্চিম এবং নেত্রকোনা, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন থানায় জাল টাকা তৈরি, প্রতারণা, মানিলন্ডারিং ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনসহ মোট ১৬টি মামলা রয়েছে ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বনানীর মনিমালা জুয়েলার্স থেকে রুবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মনিমালা জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে রুবেলসহ দুইজনের নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন। অপর আসামি হলেন—আব্দুল্লাহ হীল কাফি।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে বনানী সুপার মার্কেটের লেভেল-২-এ অবস্থিত 'মনিমালা জুয়েলার্স'-এ ক্রেতা সেজে প্রবেশ করেন রুবেল ফকির ও তার সহযোগী আব্দুল্লাহ আল কাফি। তারা তাদের ভাগ্নির বিয়ের জন্য স্বর্ণালঙ্কার কেনার কথা বলে কর্মচারীদের বিভিন্ন ডিজাইনের গহনা দেখাতে বলেন। একপর্যায়ে আসামিরা প্রায় ২০-২১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার পছন্দ করে তা বিল ও প্যাক করতে বলেন।
স্বর্ণের পরিমাণ ও দাম অনেক বেশি হওয়ায় মনিমালা জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম ফোন করে বিষয়টি দোকানের মালিককে জানান। মালিকের আসতে দেরি হওয়ায় আসামিদের বিল পরিশোধের অনুরোধ করা হলে আসামি রুবেল তার সাথে থাকা ট্রলি ব্যাগ থেকে ১ হাজার টাকা মূল্যমানের নোটের বান্ডিল বের করে কাচের টেবিলের ওপর রাখেন। নোটগুলো পরীক্ষা করতেই কর্মচারীদের সন্দেহ হয় এবং তারা তা জাল টাকা বলে নিশ্চিত হন। বিষয়টি বুঝতে পেরে দুই আসামি ট্রলি ব্যাগ ও টাকা ফেলে রেখে দোকান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান। এ সময় দোকানিদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এগিয়ে এসে আসামি রুবেলকে ধরে ফেলেন এবং উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। তবে তার সহযোগী আব্দুল্লাহ আল কাফি কৌশলে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে রাত পৌনে ৮টার দিকে বনানী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এ সময় পুলিশ ১ হাজার টাকা মূল্যমানের ৫৮টি বান্ডিলে সর্বমোট ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকার জাল নোট এবং ১টি ট্রলি ব্যাগ জব্দ করে।









