ঢামেকে লাশ ফেলে যাওয়া সেই কিশোরীর পরিচয় মিলেছে, ‌গ্রেফতার ৩

ঢাকা মে‌ডি‌ক্যাল ক‌লেজ (ঢা‌মেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে লাশ ফেলে যাওয়া সেই কিশোরীর পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত কিশোরীর নাম মিম আক্তার (১৫)। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী ও শ্বশুরসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোরী তাদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো। গ্রেফতারকৃতরা হলেন এবিএম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭), মো. ফয়সাল আহমেদ (৩৫) ও রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯)।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এক বার্তায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে এ ঘটনায় গত ১৩ আগস্ট শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়।

শুক্রবার (২১ আগস্ট)  ‌নিহতের সৎভাই আমির হোসেন জানান, কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজারের আন্দিকুট গ্রামের মৃত ফজলু মিয়া ও শিপন বেগমের মেয়ে মিম। তিন বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। 

তিনি বলেন, তিন মেয়ে রেখে তার বাবা মারা যায়। পরে আমার বাবার সাথে তার মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। দুই মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়। মিম ছিল সবার ছোট। অভাবের কারণে তাকে নারায়ণগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর বাসায় কাজে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে সে গৃহকর্মী হিসাবে এক বছর ধ‌রে কাজ করছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা তাকে নির্যাতন করে হত্যার পর মর‌দেহ ঢামেক হাসপাতালে গিয়ে ফেলে পালিয়ে যান।’

মিমের মা জানিয়েছেন, তার মেয়েকে প্রায় মারধর করতো। বিষয়টি মেয়ে মাঝে-মধ্যে সুযোগ পেলেই মোবাইলে তাকে জানতো। এ ব্যাপারে তিনি গৃহকর্তা মো. ফয়সাল আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি উল্টো তাকে বকাঝকা করেন এবং হুমকি দেন।

১১ আগস্ট রাতে মেয়েকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে জানতে পেরে তাকে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন শিপন বেগম।

মিমের মা বলেন, ‘১২ আগস্ট সকালে ওই বাসায় যাই। সেখানে গিয়ে বাসায় আমার মেয়েকে পাইনি। তাদের জিজ্ঞাসা করার পর জানায় মেয়ে নাকি চুরি করে বাসা থেকে পালিয়ে গেছে। উল্টো আমাকে শাসিয়ে দেন তারা। বিষয়টি নিয়ে আমার সন্দেহ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা অভিযোগ করি।‘ 

এদিকে শাহবাগ থানার পুলিশ হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। সেখানে দেখা গেছে, দুজন ব্যক্তি মেয়েটিকে সিএনজি অটোরিকশায় করে নিয়ে আসেন। পরে অভিনব কায়দায় তাকে ট্রলিতে তুলে দিয়ে সেখান থেকে তারা সটকে পড়েন।

পুলিশ ওই ফুটেজের সূত্র ধরে প্রথমে সিএনজি অটোরিকশা শনাক্ত করে তার চালককে আটক করেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের বাসা শনাক্ত করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অপরাধ ঢাকার উদ্দেশ্যে আসামিরা মিম আক্তারের মরদেহ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। গ্রেফতার এড়াতে তারা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার বাসা ছেড়ে রাতারাতি সপরিবারে অন্যত্র গাঢাকা দিয়েছিলেন।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে ফেলে যাওয়া কিশোরীর মরদেহের ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও শ্বশুরসহ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক এসআই মাহফুজা আক্তার ময়নাতদন্তের জন্য তার সুরতহাল প্রতিবেদন তৈয়ার করেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকালে কিশোরীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক জাকিয়া তাসনিম। তিনি বলেন, ‘কিশোরীর শরীরের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।’

মৃত্যুর আগে মেয়েটি ধর্ষিত হয়েছিল কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ডিএনএ নমুনাসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।’