১৫ আগস্টে নাশকতার পরিকল্পনা, আরও ১৫ জন রিমান্ডে

১৫ অগাস্ট ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে ঢাকার বসুন্ধরার আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের আরও ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান রিমান্ডের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই ) কামাল হোসেন এ তথ্য জানান।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন– লিমন খান, দেওয়ান ইসমাইল, ফাহিম মিয়া, রতন, রাকিব ওরফে রাফি, রাতুল শীল, মিনারুল মিয়া, মাসুদ রানা ওরফে লিমু, জিহাদ হাসান, আবু সাইম ওরফে সায়েম বাবু, ফাহিম, শাকিল মিয়া, রাজিব, সানি ও রাজন মিয়া।

গত ১৩ অগাস্ট রাতে ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম-ব্লক, রোড-২৮ এর একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ৫২ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা ১৫ অগাস্ট উপলক্ষে একত্রিত হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন।

অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি আইফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জব্দ করা ব্যানারগুলোর মধ্যে ১৫ অগাস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজনের কথা উল্লেখ ছিল। কয়েকটি ব্যানারে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছবি ছিল বলেও জানায় পুলিশ।

১৫ অগাস্ট উপলক্ষে শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিল সফল করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা সেখানে সমবেত হয় বলে জানায় পুলিশ। এ সময় তারা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা করে পুলিশ।

পরদিন ৫২ জনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন এবং দুই কিশোরকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করা হয়। আদালত ৫২ জনকে কারাগারে এবং দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ১৫ অগাস্ট সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ অগাস্ট যুবলীগ নেতা মোতালিব, যুবলীগ নেত্রী মেহেজাবীন আক্তার মালা, রুবেল, জি কে মাসুদ, অন্তর মিয়া, রমজান, মামুন, মিঠু ওরফে আমির হোসেন, আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ, সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া, মোস্তাক মিয়া, সাইম হোসেন, জাহিদ হাসান, শাহিন হোসেন ইমনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

১৫ অগাস্ট এই ১৫ আসামিরও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন রবিবার।

এদিন শুনানিকালে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী ইসলাম মিয়া রাকিব রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মো. তারেক, তারেক, শাহিন, ফয়সাল, মামুন মিয়া, মুন্না, তামজিদ মিয়া নয়ন, ইয়াছিন, জামিল, রাকিবুল হাসান রাতুল, ফয়সাল, সিয়াম, শরিফ, সাদিকুর রহমান পায়েল, শাহিন আলম, আব্দুল আলী বাবু, অনিক, তারিকুল ইসলাম, আ. রহমান, ইয়ামিন মিয়া, আতিক, আশিকরা কারাগারে রয়েছেন। ঈশান ও হাসিব নামে দুই কিশোরকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।