সোহাগ হত্যা: প্রত্যক্ষদর্শীসহ ২ জনের সাক্ষ্য

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১১আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১৭

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সামনে মাথা থেঁতলে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে হত্যা মামলায় প্রত্যক্ষদর্শীসহ দুই জন সাক্ষী দিয়েছেন। রবিবার (২৩ আগস্ট) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী তাদের সাক্ষ্য নেন।

সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিরা হলেন– সোহাগের দোকানের কর্মচারী মো. আমির হোসেন (প্রত্যক্ষদর্শী) এবং পাশের দোকানী মিঠুন হাওলাদার।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিল্লাল হোসেন জানান, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন রাখা হয়েছে।

গত ৩ অগাস্ট মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ওইদিন মামলার বাদী সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম সাক্ষ্য দেন। ১৩ অগাস্ট মো. বাবুল, সোহানা মেটালের (সোহাগের দোকান) কর্মচারী মো. হাসান ও মো. ইসমাইল সাক্ষ্য দেন। আজ দিলেন আরও দুই জন।

গত ১২ জুলাই ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত।

আসামিরা হলেন— মাহমুদ হাসান মহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির ও অপু দাস। তাদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে এবং আট জন পলাতক রয়েছে। তিন আসামি জামিনে রয়েছে।

২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকালে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে প্রকাশ্যে কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে শরীর ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয় ভাঙারি ও পুরনো তারের ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে। সেই ঘটনার এই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে যাদের অংশ নিতে দেখা গেছে এবং নেপথ্যে যাদের নাম আসছে, তারা সবাই পূর্ব পরিচিত। তাদের কয়েকজন সোহাগের ব্যবসার সহযোগীও ছিলেন এক সময়। ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধে এমন ভয়ংকরভাবে কাউকে হত্যা করা হতে পারে, তা পরিচিতজনদের ধারণারও বাইরে।

এ ঘটনায় সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। গত ৮ ডিসেম্বর ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক মনিরুজ্জামান।

অবশ্য অভিযোগপত্রে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকার কথা জানিয়ে মামলাটি ফের তদন্তে পরে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তাই। ঢাকার মহানগর হাকিম নাজমিন আক্তার গত ২০ জানুয়ারি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

এর মাঝে বদলি করা হয় পরিদর্শক মনিরুজ্জামানকে। মামলার তদন্তভার পড়ে ওই থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদের ওপর। তিনি ২১ জনের বিরুদ্ধে গত ১০ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ২১ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর ১২ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ।

/এআই /আরকে/
সম্পর্কিত
১৫ আগস্টে নাশকতার পরিকল্পনা, আরও ১৫ জন রিমান্ডে
ইলিয়াস আলী গুম: উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার দেখালো ট্রাইব্যুনাল
আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলা: আসামিপক্ষে আপিল শুনানি শুরু
সর্বশেষ খবর
প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২০টি ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো উদ্বোধন
প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২০টি ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো উদ্বোধন
অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেলেন পুলিশের ৫ কর্মকর্তা
অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেলেন পুলিশের ৫ কর্মকর্তা
গ্যাসের জন্য হাহাকার, পাম্পে কমছে না গাড়ির দীর্ঘ সারি
গ্যাসের জন্য হাহাকার, পাম্পে কমছে না গাড়ির দীর্ঘ সারি
এবারও হচ্ছে কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল
এবারও হচ্ছে কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল
সর্বাধিক পঠিত
নতুন দায়িত্বে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন 
নতুন দায়িত্বে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন 
১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ব্যাংক কর্মকর্তারা, প্রতিবাদ জানাতে এসে অজ্ঞান ব্যবসায়ী
১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ব্যাংক কর্মকর্তারা, প্রতিবাদ জানাতে এসে অজ্ঞান ব্যবসায়ী
ব্যক্তিগত যানবাহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার দাবি 
ব্যক্তিগত যানবাহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার দাবি 
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকে হত্যার রহস্য উদঘাটন, যা জানালো পুলিশ
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকে হত্যার রহস্য উদঘাটন, যা জানালো পুলিশ
খেজুর-শসার সূত্র ধরে চার খুনে জড়িতদের যেভাবে ধরলো পুলিশ
খেজুর-শসার সূত্র ধরে চার খুনে জড়িতদের যেভাবে ধরলো পুলিশ