২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে সাভারে আসহাবুল ইয়ামিন হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৩ আসামিকে হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় ছয় আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
পলাতক ১৩ আসামির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভার থানার সাবেক ওসি শাহজামান, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এএফএম সায়েদ, সাভার উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, মো. আতিকুর রহমান, ফখরুল আলম সমর, মেহেদী হাসান তুষার, রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান ও শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল।
কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ পাওয়া ছয় আসামি হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া ও মিজানুর রহমান।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান, মোহাম্মদ অলি মিয়া, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।
শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ বলেন, মামলায় মোট আসামি ১৯ জন। এর মধ্যে অন্য মামলায় গ্রেফতার ছয়জন মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। আর সাবেক এমপি সাইফুলসহ বাকি ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে কাউকে পায়নি। এ বিষয়ে তারা নন এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) দিয়েছে।
এ কারণে ছয় আসামিকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি পলাতক ১৩ আসামিকে হাজির করতে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন জানায় প্রসিকিউশন।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে ছয় আসামিকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পলাতক ১৩ আসামিকে হাজির করতে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ জুলাই ১৯ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।
নিহত আসহাবুল ইয়ামিন ছিলেন এমআইএসটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা চালায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ওই সময় ইয়ামিনকে ধরে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১টার দিকে তার বুকের বাঁ পাশে গুলি করা হয়। এতে তার শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে গুরুতর আহত ইয়ামিনকে সাঁজোয়া যানের ওপর তুলে রাখা হয় এবং আন্দোলনকারীদের ভয় দেখাতে গাড়িটি এদিক-ওদিক চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।