মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত পুলিশি কাঠামোর মধ্যে রাখলে ফল পাওয়া কঠিন: নূর খান

গুমের মতো সংঘবদ্ধ ও জটিল মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত সাধারণ পুলিশি কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে কার্যকর ফল পাওয়া কঠিন বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার অনুসন্ধানে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে যেকোনও স্থানে পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে।’

শ‌নিবার (২৯ আগস্ট) বি‌কা‌লে জাতীয় প্রেস ক্লা‌বের তোফাজ্জল হো‌সেন মা‌নিক মিয়া হ‌লে ‘গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়ো‌জিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নূর খান লিটন বলেন, ‘গুমের সত্য উদঘাটনে এমন তদন্তব্যবস্থা প্রয়োজন, যা বাহিনীগুলোর প্রভাবমুক্ত থাকবে।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইনের প্রসঙ্গ টেনে নূর খান বলেন, ‘পাঁচজন কমিশনার, গাড়ি, নিরাপত্তা ও অফিসের পেছনে রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করেও যদি কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তাহলে এমন মানবাধিকার কমিশন রেখে লাভ কী।’

বর্তমানে গুমের অভিযোগ তদন্তের জন্য কার্যকর ও স্বাধীন কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় এবং শুধু জটিলতার কথা বলে সময় পার করে, তাহলে একপর্যায়ে আমাদের বলতে হবে—সরকারের গাফিলতির কারণেই সত্য উদঘাটন হচ্ছে না। ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঘটলে রাষ্ট্রের দায় আরও গুরুতরভাবে সামনে আসবো।’

এ সময় গুমের ঘটনা অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নূর খান বলেন, ‘এসব ঘটনা অনেক সময় অত্যন্ত পরিকল্পিত ও জটিল পদ্ধতিতে সংঘটিত হয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এক বাহিনী তথ্য দিয়েছে, অন্য বাহিনী কাউকে তুলে নিয়েছে। আবার কাউকে আটকে রাখা এবং পরে হত্যা বা ছেড়ে দেওয়ার কাজ আলাদা আলাদা দল করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে দল তুলে নেয়, যে দল আটকে রাখে এবং যে দল শেষ পর্যায়ে নিয়ে যায়—অনেক ক্ষেত্রে তারা একে অপরকেও চিনত না। এভাবে পুরো ঘটনাকে এমন জটিল করে তোলা হতো, যাতে পরে প্রকৃত ঘটনা বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।’