ছিনতাইকারীর টানে পড়ে শিক্ষকের মৃত্যু

সিঁধেল চুরি থেকে ডাকাতি: গ্রেফতার পনি গাজীর বিরুদ্ধে ১৩ মামলা

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্কুলশিক্ষিকা রনজিনা পারভীন হত্যা মামলায় গ্রেফতার মূল সন্দেহভাজন মো. মোশাররফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ওরফে প্যারা পনির বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় র‌্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দফতরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।

র‌্যাব জানায়, পনি গাজী একজন পেশাদার ছিনতাইকারী এবং একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজধানীর তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক বিক্রি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, পনির বিরুদ্ধে ডিএমপির হাতিরঝিল, আদাবর ও কাফরুল থানায় মাদকের তিনটি মামলা রয়েছে। ভাটারা, মোহাম্মদপুর, কাফরুল, বাড্ডা ও শাহজাহানপুর থানায় চুরি, সিঁধেল চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ছয়টি মামলা রয়েছে। এছাড়া আদাবর, খিলগাঁও ও কামরাঙ্গীরচর থানায় চুরি ও সিঁধেল চুরির তিনটি মামলা রয়েছে। ঢাকার বাইরে চাঁদপুর মডেল থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণের একটি মামলা রয়েছে।

র‌্যাব জানায়, রবিবার নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তেজগাঁও থানাধীন পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রনজিনা পারভীন হত্যা মামলার মূল সন্দেহভাজন পনি গাজী ও তার সহযোগী সেড্রিককে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাবের অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, পনি গাজী এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং পরে জামিনে বের হন। তবে কবে জামিনে বের হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি যাচাই করছে।

র‌্যাব জানায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবারী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন চিকিৎসার জন্য স্বামীর সঙ্গে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ছিনতাইকারী পেছন থেকে তার ব্যাগ ধরে টান দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পান। পরে তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় রনজিনা পারভীনের স্বামী আব্দুল মতিন অজ্ঞাতনামা দুই ছিনতাইকারীকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

র‌্যাবের ভাষ্য, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির মালিক রাকিব। ঘটনার দিন মোটরসাইকেলটি পনি গাজীর কাছে ছিল। রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তিনি কতটুকু সম্পৃক্ত, তা তদন্ত করে দেখা হবে। জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব আরও জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলচালকের সঙ্গে পনি গাজীর দৈহিক গঠন মিলে যায়। স্থানীয় ১৫ জন সোর্সকে ভিডিও দেখিয়ে পনির জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আসামিদের মুঠোফোন নম্বরের অবস্থানও তদন্ত করা হয়েছে।

তবে গ্রেফতারের পর পনি গাজী সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, তাকে জোর করে ধরে আনা হয়েছে। তার মোটরসাইকেলের রং সাদাকালো, অথচ ছিনতাইয়ের সময় দেখা মোটরসাইকেলটি নীল রঙের ছিল।

র‌্যাব বলেছে, পনি গাজী ও তার সহযোগীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে।