ছিনতাইকারীর টানে পড়ে গিয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

সিসিটিভির বাইক থেকে মোবাইল লোকেশন: ২ আসামিকে গ্রেফতারে র‌্যাবের যেসব যুক্তি

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্কুলশিক্ষিকা রনজিনা পারভীন হত্যা মামলার মূল সন্দেহভাজন মো. মোশাররফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ওরফে প্যারা পনিকে গ্রেফতারের পেছনে তিনটি যুক্তি তুলে ধরেছে র‌্যাব-২। র‌্যাব বলছে, মোটরসাইকেলের মালিকের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলচালকের সঙ্গে পনির দৈহিক গঠনের মিল এবং আসামিদের মুঠোফোনের অবস্থান—এই তিনটি বিষয়ের ভিত্তিতে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় র‌্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দফতরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির মালিক রাকিব। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পনি গাজী বিভিন্ন সময় জোর করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যেতেন। ২৬ আগস্ট থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত মোটরসাইকেলটি পনি গাজীর কাছেই ছিল। বাইকটি নিয়ে পনি কী করতেন, সে বিষয়ে রাকিব জানেন না।

দ্বিতীয় যুক্তি হিসেবে নয়মুল হাসান বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা মোটরসাইকেলচালকের সঙ্গে পনি গাজীর দৈহিক গঠন মিলে যায়। স্থানীয় ১৫ জন সোর্সকে ভিডিও দেখিয়ে পনির জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন তারা। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি নিহত রনজিনা পারভীনের স্বামী আবদুল মতিনকেও দেখানো হয়েছে। তিনিও একই ধরনের মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বলে দাবি করেছে র‌্যাব।

তৃতীয় যুক্তি হিসেবে র‌্যাব জানায়, রাত আড়াইটা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত আসামিদের মুঠোফোন নম্বরগুলো ওই এলাকা দিয়ে ঘোরাফেরা করেছে।

নয়মুল হাসান বলেন, এসব তথ্যের ভিত্তিতে পনি গাজী ও তার সহযোগী সেড্রিককে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় আসামি অজ্ঞাত থাকায় তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে।

র‌্যাব জানায়, রবিবার গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পনি গাজী ও তার সহযোগী সেড্রিককে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত ইয়ামাহা আর-১৫ মডেলের একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

এ ঘটনায় রনজিনা পারভীনের স্বামী আব্দুল মতিন অজ্ঞাতনামা দুই ছিনতাইকারীকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

র‌্যাব জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবারী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন (৫৫) চিকিৎসার জন্য স্বামীর সঙ্গে গাবতলী থেকে রিকশাযোগে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ছিনতাইকারী পেছন থেকে তার ব্যাগ ধরে টান দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পান। পরে তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পনি গাজী একজন পেশাদার ছিনতাইকারী এবং তার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে।