গুলশানে ফ্ল্যাট জালিয়াতি: টিউলিপের বিরুদ্ধে মামলার চার্জ শুনানি পেছালো

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ফ্ল্যাট জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী বছরের ১১ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালত এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

দুদকের পক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আজ মামলাটির অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার আসামি মোশাররফ হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারায় উচ্চ আদালতে মামলাটি বাতিলের আবেদন করেছিলেন। উচ্চ আদালত আগামী এক বছরের জন্য মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। উচ্চ আদালতে ওই আবেদন সংক্রান্ত শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আসামি সরদার মোশাররফ হোসেন মামলাটি বাতিলের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। গত ৭ জুলাই উচ্চ আদালত তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এক বছরের জন্য মামলার সব কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দেন।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতে বদলির নির্দেশ দেন।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নেন আদালত। ওইদিন আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঢাকার গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনও টাকা পরিশোধ না করেই অবৈধভাবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২-এর একটি ফ্ল্যাট দখল নেন এবং পরে তা রেজিস্ট্রি করেন। ফ্ল্যাটটির নম্বর বি/২০১, বাড়ি নম্বর ৫এ ও ৫বি (পুরোনো), বর্তমানে ১১৩ ও ১১বি (নতুন), রোড নম্বর ৭১।

মামলার আরেক আসামি শাহ মো. খসরুজ্জামান চলতি বছরের জুলাইয়ে মামলার তদন্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তার বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে চেম্বার আদালতে গেলেও দুদক ‘নো অর্ডার’ আদেশ পায়।

গত ১১ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৫(ক), ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।