সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেফতার ইফতেখার অনিকের (৩৩) পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত এই রিমান্ডের আদেশ দেন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নাফিউল ইসলাম সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. আরিফ হোসেন।
তবে রিমান্ড শুনানিতে আসামির পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ইফতেখার অনিক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ইকুরিয়া এলাকার মো. আলমের ছেলে। তিনি ‘Iftekhar Anik’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন পোস্ট ও মন্তব্য করে আসছিলেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৭ আগস্ট বিষয়টি বাদীর নজরে এলে তিনি স্থানীয়দের অবহিত করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে, অভিযোগ অনুযায়ী— অনিক তাদের সামনে ধর্মীয় বই-পুস্তক ছিঁড়ে ফেলেন এবং সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় মো. আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর গত ২৯ আগস্ট রাতে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় ইফতেখার অনিককে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামির বাড়ি থেকে একটি মোটোরোলা স্মার্টফোন ও একটি এইচপি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর পেছনে অন্য কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা জানতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে, সকাল থেকেই আসামির বিচারের দাবিতে আদালত এলাকায় কয়েকশ সাধারণ মানুষ জড়ো হন। তারা বিভিন্ন শ্লোগান দেন এবং ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানান।