ঢামেকে গৃহকর্মীর মরদেহ ফেলে যাওয়া ৩ জন রিমান্ড শেষে কারাগারে

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গৃহকর্মী মীম আক্তারের মরদেহ ফেলে পালানোর অভিযোগে হত্যা মামলায় তিন জনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার আবদেনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুক্রবার প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম এ তথ্য জানান।

তিন আসামি হলো– গৃহকর্তা ফয়সাল আহমেদ (৩৫), তার স্ত্রী গৃহকর্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯) এবং শ্বশুড় এবিএম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭)। তাদের মধ্যে ফয়সাল পেশায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, তার শ্বশুড় আব্দুর রাজ্জাক ওষুধ ব্যবসায়ী এবং রেশমা গৃহিণী।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মীম আক্তার (১৫) প্রায় এক বছর ধরে ফয়সাল আহমেদের বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করছিল। কাজ শুরুর পর থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের কথা মীম ফোনে পরিবারকে জানালে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

গত ১২ আগস্ট অজ্ঞাত হিসেবে মীমের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মীমের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এর মধ্যে ১৩ আগস্ট সকালে ফয়সাল মীমের পরিবারকে ফোন করে জানায়, সে বাসা থেকে টাকা-পয়সা চুরি করে অন্য এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। ১৭ আগস্ট মীমের পরিবারের সদস্যরা আসামিদের বাসায় গিয়ে তার খোঁজ করলে তাদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

২০ আগস্ট খবর পেয়ে মীমের পরিবার শাহবাগ থানায় যায় এবং পুলিশের সহায়তায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে সংরক্ষিত মরদেহ শনাক্ত করে।

নিহত মীম কুমিল্লার বাসুদেব বাজার এলাকার ফজলু মিয়ার মেয়ে। মীমের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা ২১ আগস্ট শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার পর আসামিরা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় দীর্ঘদিনের বাসস্থান ছেড়ে ডেমরা এলাকায় আত্মগোপন করে। ২০ অগাস্ট রাতে অভিযান চালিয়ে ডেমরার বামৈল এলাকা থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহফুজা আক্তার আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার। ওইদিন তাদের তিন দিনের রিমান্ড দেন আদালত।

এসআই শাহ আলম বলেন, বৃহস্পতিবার রিমান্ড শেষে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদন ছিল না বলে জানান তিনি।

এদিকে সোমবার রিমান্ড শুনানিতে ওই গৃহকর্মী ‘আত্মহত্যা করেছে’ বলে দাবি করেন আসামিপক্ষ ও তাদের আইনজীবী।