অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের প্রাপ্য গ্রস পেনশনের ৭৫ শতাংশ এককালীন আনুতোষিক এবং সরকারি চাকরিজীবীদের মতো নিয়মিত উৎসব ভাতা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে রায় পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে বকেয়া আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. ইউসুফ ভূঁইয়াসহ ১৪৭ জন অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ সচিব বকেয়া আনুতোষিক এবং বিধিমালা অনুযায়ী নিয়মিত উৎসব ভাতা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করেন। রিট আবেদনকারীদের প্রায় ২০ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে বলে জানানো হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ৩১ জনকে রিটে বিবাদী করা হয়।
এর আগে ২০২২ সালের ১৬ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। নোটিশ পাওয়ার পরও যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরে রিট দায়ের করা হয়।
রিটের বক্তব্যে বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা অবসরের সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গ্রস পেনশনের ৫০ শতাংশ সমর্পণ করে তার বিপরীতে আনুতোষিক পেয়েছেন। পরবর্তী সময়ে গ্রস পেনশনের বাকি ৫০ শতাংশ সমর্পণ করলেও এর বিপরীতে তারা আনুতোষিক পাননি।
আবেদনকারীদের দাবি, বিধিমালা অনুযায়ী সমর্পিত বাকি ৫০ শতাংশের বিপরীতে তারা নির্ধারিত হারে এককালীন আনুতোষিক পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বাকি আনুতোষিক আটকে রেখেছে।
রিটে আরও বলা হয়, ২০১১ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা পরিষদের নিজস্ব কর্মচারী। বিধিমালা অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেল অনুসারে তাদের বেতন-ভাতা ও উৎসব ভাতা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া ১৯৯৪ সালের ইউনিয়ন পরিষদ কর্মচারী (ভবিষ্য তহবিল এবং আনুতোষিক) বিধিমালা অনুযায়ী সচিবরা সরকারি কর্মচারীদের মতো পেনশন, আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা পাওয়ার অধিকারী বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনকারীদের আইনজীবী আদালতে এসব আইনি যুক্তি তুলে ধরে বকেয়া আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা প্রদানের নির্দেশনা চান। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত রায় ঘোষণা করেন।