এসআই আলতাফকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়নি: র‍্যাব

সাভারে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তরা কিশোর গ্যাংসহ নানা অপরাধে যুক্ত বলে জানিয়েছে র‍্যাব। র‍্যাব জানায়, এসআই আলতাফ হোসেনকে পুলিশ সদস্য হিসেবে টার্গেট করে হত্যা করা হয়নি। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা নেশাগ্রস্ত ছিল। একটি অপরাধের ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে ঘটনাচক্রে হামলার শিকার হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। 

র‌্যাবের অভিযানে এই ঘটনায় এজাহারনামীয় ৮ জনকে গ্রেফতারের পর সোমবার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এমন তথ্য দিয়েছেন। 

র‌্যাব জানায়, র‌্যাব-১০, সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল রবিবার রাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এজাহারনামীয় ৪ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০) ও ইমরান (২৬)। গ্রেফতারকৃত আপন (৩০) সাভার থানার ৩টি মাদক মামলার আসামি।

এছাড়া একই ঘটনায় র‌্যাব-৪-এর একটি আভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার থানাধীন আমিনবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৪ জন এজাহারনামীয় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেতে সক্ষম হয়। 

গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের নাম নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. রাকিব মিয়া (২৮),  ছাব্বির আহম্মেদ (২৪), এবং মো. ওয়াসিম (৪০)।  

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, গ্রেফতার জিহাদ ও আপন কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বের সঙ্গে জড়িত এবং মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ১৫ আসামির সবাই কোনও না কোনোভাবে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। 

তিনি বলেন, এসআই আলতাফ হোসেনকে পুলিশ সদস্য হিসেবে টার্গেট করে হত্যা করা হয়নি। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা নেশাগ্রস্ত ছিল। একটি অপরাধের ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে ঘটনাচক্রে হামলার শিকার হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। 

র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেফতার আপন এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা। সে এসএস পাইপ দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেনকে আঘাত করে। মানবিক বিবেচনায় স্থানীয় একটি ঝামেলা মীমাংসা করতে গিয়েছিলেন এসআই আলতাফ। কিন্তু হামলাকারীরা তার কোনও কথাই শোনেনি। একপর্যায়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। 

এই ঘটনায় জনসম্মুখে অপরাধ সংঘটিত হলেও অনেকেই অপরাধীকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে ছবি তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান বলে মন্তব্য করেন র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক।

তিনি বলেন, “এই ধরনের সংঘঠিত অপরাধে জনসাধারণকে এগিয়ে আসতে হবে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে একা সম্ভব নয়। জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ হলে এই ধরনের অপরাধও কমে আসবে।” 

তিনি আরও বলেন, “জনসম্মুখে কোনও অপরাধ সংঘটিত হলে সাধারণ মানুষের দায়িত্ব হলো অপরাধীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া। এই ধরনের ঘটনায় আইনেও সাধারণ মানুষকে অপরাধীকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু মানুষ বিবেক বিসর্জন দিয়ে শুধু ছবি তুলে ঘটনাস্থল এড়িয়ে যাচ্ছে, যা মানবিক স্খলনের উদাহরণ।” 

আরও চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। মুন্সীগঞ্জের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে দুই জন এবং সেখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের এলাকা থেকে আরও দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়। 

এ নিয়ে ১৫ আসামির মধ্যে র‍্যাব মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। আর একজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার থানা।