কার্গো থেকে সরানো হলো বিমানের সেই কর্মকর্তা লোটাসকে

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মঈন উদ্দিন ওরফে লোটাসকে স্ট্যান্ড রিলিজ প্রদান করে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। আলোচিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩৭৭ কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। 

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) শামছুল করিমের সই করা আদেশে স্ট্যান্ড রিলিজ করে মতিঝিলের ‘ফার্মগেট, ডিএসও’ শাখায় বদলি করা হয় তাকে। 

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্গো সেক্টরে চাঁদাবাজি, রোস্টার নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব খাটাচ্ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে কার্গো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ শ্রমিক ও হেলপাররা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

‎অভিযোগে আরও বলা হয়, মইন উদ্দিন লোটাস কার্গো সেক্টরে একটি আতঙ্কের নাম। তার বাড়ি বগুড়া। তিনি বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটান। নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা না দিলে ডিউটি, রোস্টার কিংবা কাজের ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।

‎এতে বলা হয়েছে, কার্গো কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপে অনিয়মিত আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা আদায়ের একটি অঘোষিত ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এতে শুধু শ্রমিকরাই নন, সামগ্রিকভাবে কার্গো ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন অনিয়ম, ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, চোরাচালান, অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকা প্রমাণিত হওয়ায় বিমান কর্তৃপক্ষ ২০০৭ সালে মো. মইন উদ্দিন লোটাসকে বরখাস্ত করেছিল। বিশেষ সুপারিশ নিয়ে ২০১২ সালে বিমান কার্গো শাখায় পুনরায় যোগদান করেন। বিগত সময় ধরে কার্গোতে বিভিন্ন অপকর্ম, মালামাল পাচার, চাঁদাবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য, রোস্টারবাজি করে আসছেন ।

গত বছরের ডিসেম্বরে ৪ হাজার কেজির ওপরে মালামাল কোনও প্রকার রাজস্ব ছাড়াই জাল জালিয়াতির মাধ্যমে খালাস করে বের করা হয়। এ ঘটনাতেও তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগে জানানো হয়। 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রোস্টার ডিউটিতে মইন উদ্দিন এবং রফিকুল আলমের যৌথ অংশগ্রহণে কার্গো চোরাচালান, কাগজ জালিয়াতি, ভুয়া এক্সিট নাম্বার প্রদান (এক্স নাম্বার) করে গত ৭ ডিসেম্বর সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়াসহ বিভিন্ন অপকর্ম সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। কার্গো সেক্টর দেশের আমদানি-রফতানির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে অনিয়ম বা প্রভাব বিস্তার চলতে থাকলে তা শুধু শ্রমিকদের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি করবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। 

অভিযোগ দায়েরের পর থেকে তার বিরুদ্ধে বিমান কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে আসছিল। অবশেষে সোমবার তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলো।