কিশোরগঞ্জে দোকানে ডাকাতির সময় দুই ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে উচ্চ আদালতে ১০ বছরের সাজা পাওয়া ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন চাইলেও তার আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে নুর মোহাম্মদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অসুস্থতার কথা বিবেচনায় নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত সেই আবেদনও নামঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জ বড় বাজার এলাকার দোকান মালিক মো. ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবিরকে হত্যা করা হয়। ডাকাতেরা দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন কিশোরগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
বিচার চলাকালে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া মারা যান।
পরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্য আসামিদের সাজা বিভিন্ন মেয়াদে কমানো হয়। নুর মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ডও কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার নুর মোহাম্মদ বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তার আইনজীবী বলেন, নুর মোহাম্মদের বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করেন। তিনি বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করায় আপিলের শর্তে তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করা হয়।
তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, নুর মোহাম্মদ হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি পলাতক হন। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার সময়ও তিনি পলাতক ছিলেন।