অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৮৪টি এমএফএস (বিকাশ/নগদ) অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিমকার্ডসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন সাগর শিকদার (৩২), অমল কীর্তনিয়া অভি (৩০), মিথুন সরকার (২৪), সুনীল মৃধা (২৫), কাজী উসরাত আঞ্জুমান মেঘা (২০), মারুফা (২১) ও মো. রাকিবুল হাসান (৩২)।
ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন শনাক্ত করে ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি দল। এসব ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা ও লেনদেনের জন্য বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) এজেন্ট, মার্চেন্ট ও পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরে অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন থেকে পাওয়া বিভিন্ন এমএফএস অ্যাকাউন্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে শনাক্ত করা হয়।
ডিবি সূত্র আরও জানায়, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে যশোর কোতোয়ালি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাত আনুমানিক ৪টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি থেকে চক্রটির মূলহোতা সাগর শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৪৮৪টি এমএফএস (বিকাশ/নগদ) অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিমকার্ড, ৪৬টি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন, আটটি ল্যাপটপ, ২৭টি ব্যাংক কার্ড, তিনটি ডায়েরি ও দুটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
ডিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ার সাইট ও অ্যাপ পরিচালনার জন্য এমএফএস ওয়ালেট সরবরাহ করে লেনদেন সচল রাখা ছিল চক্রটির প্রধান কাজ।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইনে রমনা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।