কাতার প্রবাসী সিফাত উল্লাহকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামিসহ দুজনকে রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩। সিফাত ত্রিভূজ প্রেমের বলি হয়েছেন বলে তথ্য পেয়েছে র্যাব।
গ্রেফতার প্রধান আসামি হলেন আল আমিন হোসেন জয় (২৭); অপরজন সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (২৪)। রবিবার দিবাগত রাতে খিলগাঁও এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর র্যাব জানায়, রাজধানীর সবুজবাগ থানা এলাকায় থাকেন সিফাত উল্লাহ। তিনি কাতার প্রবাসী। গত দেড় মাস আগে তিনি কাতার হতে দেশে চলে আসেন। তার সঙ্গে নাফিজা শেখ নেহা (২৩) নামের এক জনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অন্যদিকে আসামি সাজিদের সঙ্গে নেহার গত ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নেহার সঙ্গে সিফাতের সম্পর্কের বিষয়ে সাজিদ অবগত ছিল না। পরে গত ২৫ আগস্ট নেহার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সাজিদ জানতে পারে সিফাতের সঙ্গেও নেহার প্রেমের সম্পর্ক আছে। সাজিদ বিষয়টি জানার পর নেহার সঙ্গে সাজিদের প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে।
র্যাব জানায়, অপরদিকে আল আমিন হোসেন জয়ের নেহার সঙ্গে আগে মাদারটেক আব্দুল আজিজ উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সুবাদে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জয় একই এলাকার বড় ভাই। সে এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি মাঝে মাঝে ওই বাসায় বন্ধুদের নিয়ে এসে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি সিফাত জানতে পেরে তাদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে জয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। গত ৬ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টার দিকে প্রেমিকা নেহার রাজধানীর মাদারটেক বড়ইতলা এলাকায় সাবলেট বাসায় ভিকটিম সিফাত মোটরসাইকেলে দেখা করতে আসে। তার দেখা করতে আসার খবর পেয়ে ইয়াছিন, অনিক, তুহিন ও রাজুসহ আরও কয়েকজন নেহার বাসায় আসে। এ সময়ে জয় বিল্ডিংয়ের নিচে অবস্থান করছিল। জয়ের সহযোগীরা ওই বাসায় প্রবেশ করলে সিফাতের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ইয়াসিন ও রাজু আহত হন। ইয়াসিন ও রাজু আহত হওয়ার পর তারা সবাই নিচে নেমে আসে এবং তাদের পেছনে সিফাত নিচে নেমে মোটরসাইকেলে ওই স্থান ত্যাগের চেষ্টা করে। এ জয়ের সহযোগীরা সিফাতকে পেছন থেকে ইট ছুড়ে মারে। ইটের আঘাতে সিফাত মাটিতে পড়ে যায়। পরে জয় সিফাতের মাথায় লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করে। তারা সবাই মিলে সিফাতকে ধারালো ছুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রাখে। সিফাতের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে স্থান ত্যাগ করে।
র্যাব জানায়, বর্তমানে মোটরসাইকেলটি সবুজবাগ থানা পুলিশের হেফাজতে আছে। স্থানীয় লোকজন ভিকটিম সিফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সিফাতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে সিফাত মারা যান।
এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় র্যাব।







