রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের সাতরাস্তা এলাকায় বিটিসিএল কার্যালয়ে চুরি করতে গিয়ে আটক এক অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে ওই যুবককে আটক করে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
মৃত যুবকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। পরনে ছিল কালো গেঞ্জি ও কালো ট্রাউজার।
ঢামেক হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসা বিটিসিএলের অফিস সহকারী মো. সাইফুল ও কেয়ারটেকার শওকত আলী জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সাতরাস্তা ভূমি জরিপ অফিসের পাশে বিটিসিএল কার্যালয়ের দেয়াল টপকে তিন যুবক ঢোকেন। এ সময় আনসার সদস্য ও অফিস স্টাফরা একজনকে আটক করেন। বাকি দুজন পালিয়ে যান।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক যুবক পালানোর চেষ্টা করে এবং এ সময় এক আনসার সদস্যের হাতে আঘাত করেন। পরে অফিস স্টাফ ও আনসার সদস্যরা তার হাত বেঁধে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বলছে, যুবককে আনসার সদস্যরা মারধর করেননি।
মঙ্গলবার বাহিনীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তেজগাঁওয়ের বিটিসিএল কার্যালয়ে চোর সন্দেহে এক যুবককে আটক করে আনসার সদস্যদের পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বাহিনীর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত সংবাদে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
আনসারের দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তেজগাঁও টিঅ্যান্ডটি তার ভান্ডার এলাকায় কয়েকজন যুবক প্রবেশ করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্গীভূত আনসার সদস্য শাহজামাল এক যুবককে চুরি করতে দেখে ধাওয়া করেন। পুরোনো টিনের চালের ওপর দিয়ে দৌড়ানোর একপর্যায়ে ওই যুবক চাল ভেঙে নিচে পড়ে যান।
পরে বিটিসিএলের স্টাফ মো. শওকত হোসেন তাকে আটক করেন। সংস্থার টেলিফোনিক নির্দেশে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা তাকে আটক করতে সহযোগিতা করেন।
আনসার জানায়, ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের মধ্যে পিসি নুরুল ইসলাম আটক যুবককে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের পিও সুলতান মাহমুদ এবং ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
বাহিনীর দাবি, আটক যুবককে আনসার ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে মারধর বা নির্যাতনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। ফলে আনসার সদস্যদের মারধরের কারণে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে—এমন প্রচারের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনও সামঞ্জস্য নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও বলেছে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইন, বিধি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল। কোনও স্থাপনায় নিরাপত্তা ভঙ্গকারী ব্যক্তিকে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করাই দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মূল কর্তব্য। এ ক্ষেত্রেও আটক ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, যুবকের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।