১৬ দিনে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা চাঁদা দাবি, ৬২৭টি অভিযোগ

মাত্র ১৬ দিনে সারাদেশ থেকে ৬২৭টি চাঁদাবাজির অভিযোগ জমা পড়েছে বেনামে অভিযোগ গ্রহণকারী প্ল্যাটফর্ম চাঁদাবিডি ডটকমে। যেখানে দাবিকৃত অর্থের সম্মিলিত পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬২ টাকায়।

গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ জমা পড়ছে। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৮ হাজার টাকা।

২৫ আগস্ট থেকে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সংগৃহীত এই তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন চিত্র। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে চাঁদাবিডি ডটকম।

প্লাটফর্মটি বলছে, অভিযোগের সংখ্যায় ঢাকা এগিয়ে থাকলেও, টাকার অংকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে খুলনা। সেখানে মাত্র ৪২টি অভিযোগেই দাবি করা হয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ টাকা। জনপ্রতি দাবির অংকে যা চট্টগ্রামের প্রায় চার গুণ।

সংখ্যায় চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরে প্লাটফর্মটি বলছে, ঢাকা বিভাগে তাদের প্লাটফর্মে ২৬৯ অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ১২ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ৯৬০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। যা মোট দাবির ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ। খুলনা বিভাগে ৪২টি অভিযোগে ২ কোটি ৮ লাখ ৩১ হাজার ৭০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে।

সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এই বিভাগে ১৩৭টি  অভিযোগ জমা পড়েছে। মোট চাঁদা দাবি করা হয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩ টাকা। রাজশাহী বিভাগে ৫৬টি অভিযোগে ১ কোটি ৭ লাখ ৭৩ হাজার ২৮০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে।

রংপুরে ৪৩ টি অভিযোগে ৯৭ লাখ ৫৩ হাজার ৮৮০ টাকা, সিলেটে ২২টি অভিযোগে ৩৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৬৪ টাকা, বরিশালে ৩৩টি অভিযোগে ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫ টাকা এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫টি অভিযোগে ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৪০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে প্লাটফর্মটি বলছে, সরাসরি ‘হুমকি বা ভয় দেখানো’র মাধ্যমে চাঁদা দাবির ঘটনা সংখ্যায় কম (৫৯টি) হলেও, প্রতিটি ঘটনায় গড় দাবির অংক সবচেয়ে বেশি। মোট ৪ কোটি ৬১ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকা। 

অন্যদিকে সরাসরি ‘চাঁদা দাবি’ শীর্ষক অভিযোগ ২০৫টি। যাতে মোট চাঁদা দাবির পরিমাণ ৭ কোটি ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৩ টাকা। যা মোট দাবির প্রায় ৩৯ শতাংশ। সংখ্যায় সর্বাধিক ২৩৭টি অভিযোগ ‘জোরপূর্বক অর্থ আদায়’ সংক্রান্ত।

প্রকাশিত অভিযোগগুলোতে দর্শনার্থীরা এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৩৫৮ বার ‘সঠিক’ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন — অর্থাৎ প্রতি ৭ জনের মধ্যে প্রায় ৬ জনই অভিযোগগুলোকে সত্য বলে মনে করছেন।

তবে সাইট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, এ ধরনের প্রতিক্রিয়া কোনও অভিযোগের আইনি বা চূড়ান্ত সত্যতা প্রমাণ করে না। প্রতিটি অভিযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে ইমেইলে পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত মোট ৮৭৭টি ইমেইল প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে।

চাাঁদাবিডি ডটকম দেশের সকল গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি সাইটে প্রকাশিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে সংবাদ প্রস্তুত ও প্রকাশ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ‘চাঁদাবাজির মতো একটি জাতীয় অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, এই তথ্য-উপাত্ত জনসম্মুখে আসুক, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ হোক, এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একটি চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে গণমাধ্যম, প্রশাসন ও জনগণের যৌথ প্রচেষ্টাই একমাত্র পথ।’