জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার আশুলিয়া থানার এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর শুনানিতে কারাগার থেকে আদালতে নেওয়ার সময় মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন মডেল মোসা. সিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুবাস। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পরে তাকে আবারও হাজতখানায় নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর সুস্থতা অনুভব করলে তাকে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে নেওয়া হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। শুনানি চলাকালে মিষ্টি সুবাস ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালতকে বলেন,‘বারবার মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন।’ মিষ্টি সুবাসের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবী গোলাম রাব্বানী জানান, গত ২৬ মার্চ সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়ে গ্রেফতার হন মিষ্টি সুবাস। এরপর একে একে তাকে চার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এসব মামলায় জামিন পেয়ে মিষ্টি সুবাস কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর নতুন করে হত্যাচেষ্টার এই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই আতোয়ার রহমান। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন ১৩ সেপ্টেম্বর।
এ দিন শুনানিকালে মিষ্টি সুবাসকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ১২টার পর কাঠগড়ায় নেওয়ার জন্য তাকে হাজতখানা থেকে বের করা হয়। এ সময় তিনি অসুস্থতা অনুভব করে মাথা ঘুরে নিচে পড়ে যান। তখন দায়িত্বরত কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য তাকে তুলে হাজতখানায় ফিরিয়ে নিয়ে যান। পরে সুস্থতা অনুভব করলে তাকে ফের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তার উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়।
এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মিষ্টি সুবাস কথা বলার অনুমতি প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়েছি। এটা তো কোনও অপরাধ হতে পারে না। আমাকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। জামিন পেলেই আমাকে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমি তো কোনও অন্যায় করেনি। বারবার মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী গ্রেফতার না দেখানোর প্রার্থনা করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ঢাকার আশুলিয়া থানার বাইপাইল মোড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন কিশোর মো. আবির। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে। তাদের ছোঁড়া গুলিতে আবির গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর আশুলিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা হয়।