রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেফতার আরও ৯ আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
এই আসামিরা হলেন— রেহানা পারভিন (৪৩), মো. সাইফুল ইসলাম (৫২), মো. জুয়েল শিকদার (৩৩), মো. নাজিম উদ্দিন (৩৪), মো. সাহেদ (৩৭), শান্ত শেখ (২৮), মো. হারুন মাইজভান্ডারী (৫৫), খালেদ মাহমুদ ফয়সাল (৪০) ও মো. সফিকুর রহমান (৫০)।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন।
আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, গ্রেফতার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ঘটনার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে। তাদের নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে। আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে পৃথক রিমান্ড আবেদন দাখিলের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) একই ঘটনায় ২৪ আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এসব আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর গুলশান থানাধীন এলাকায় গত ১১ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ১২টায় নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করাসহ সরকার বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও সরকারকে বেকায়দায় ফেললে লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান প্রদান ও বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে সমাবেশের আয়োজন করেন।
এসময় তারা ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। অজ্ঞাতনামা আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য হয়ে নিষিদ্ধ সত্ত্বাকে সমর্থন করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন-সহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগনের জানমালের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশে তথা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান প্রদান ও বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান৷
পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পুলিশের উদ্দেশে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। এসময় পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮০/১০০ জনকে আসামি করা হয়।