চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ব্যবহৃত কম্পিউটারের উইন্ডোজ সাইবার ঝুঁকিতে আছে বলে জানিয়েছেন আসামি ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় নবম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় থাকা পলক কথা বলেন।
পলক ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে বলেন, নবম সাক্ষীকে জেরা করার আগে তিনি তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চান। তিনি নামাজ পড়বেন এবং দুপুরের খাবার খাবেন। এসব কারণে সাক্ষীকে জেরা শুরুর আগে দুই ঘণ্টা সময় চান তিনি।
এ সময় পলক অভিযোগ করে বলেন, তাকে আজ হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আনা হয়েছে। তার হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। মাথায় ভারী কিছু না দেওয়ার জন্য তাকে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।
পলক বলেন, ট্রাইব্যুনালের ভেতরে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাজতখানায় আনার সময় তাকে এভাবে আনা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল নিরাপদ জায়গা। এই অল্প জায়গার জন্য হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানোর কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না।
এরপর ট্রাইব্যুনালের সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন পলক। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল সাইবার ঝুঁকিতে আছে। এখানকার কম্পিউটারে যে উইন্ডোজ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রাইব্যুনালে যেন লাইসেন্স করা উইন্ডোজ ব্যবহার করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল তখন এসব বিষয়ে প্রসিকিউশনের অবস্থান জানতে চান। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম আসামির সময় আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘আসামি পলককে যে নিরাপত্তা দিয়ে আনা হয়, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়। ট্রাইব্যুনাল বা প্রসিকিউশনের কিছু করার নেই।’
উইন্ডোজের বিষয়ে প্রসিকিউটর বলেন, বিষয়টি দেখা হবে। এ বিষয়ে আইটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা হবে।
এ সময় কম্পিউটারে পাইরেটেড সফটওয়্যার যাতে ব্যবহার না করা হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন ট্রাইব্যুনাল।