রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস কারাগারে

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণীকে ঢাকার একটি ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মাসুদ রানা সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুই দিনের রিমান্ড শেষে হরিদাসকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক এমআই হেলাল উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর হরিদাসের দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয় আদালত। 

ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গত ২৪ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। 

মামলায় বলা হয়, বাদী মাহবুবুর রহমান ও আসামি ওবাইদুল ইসলাম কলেজ জীবনের বন্ধু এবং তারা উত্তরা ১২ নম্বর এলাকায় থাকেন। ওবাইদুল নিজেকে অনয় ডেভেলপার কোম্পানির মালিক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় তার অফিস রয়েছে বলে মাহবুবকে জানিয়েছিলেন। 

এজাহারে বলা হয়, সেই যোগাযোগের সূত্র ধরে মাহবুব নিকুঞ্জ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য ওবাইদুলকে প্রথমে ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেন। পরে ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে জানিয়ে আরও ১৫ লাখ টাকা চাইলে সেটিও দেন তিনি। 

কিন্তু এরপর ওবাইদুল ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে তাকে ‘ঘোরাতে’ থাকেন এবং টাকা ফেরত চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেন বলে মাহবুবের অভিযোগ। 

এরপর মাহবুব নিকুঞ্জে ওবাইদুলের অফিসে গেলে তাকে ওবাইদুল বলেন, ‘তার ব্যবসায়িক অংশীদার হরিদাস চন্দ্র তরণী সেখানে আসছেন’।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পরে হরিদাস ওই অফিসে গিয়ে মাহবুবকে বলেন, ‘তার কাছে টাকা নেই, তবে ফ্ল্যাট আছে এবং তিনি ফ্ল্যাট দিতে পারবেন’।

হরিদাসের কথায় বিশ্বাস করে মাহবুব তাকে আরও ৪৫ লাখ টাকা দেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এভাবে ওবাইদুল ও হরিদাস মিলে মোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নিলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেননি বলে অভিযোগ করেছেন মাহবুব।

৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে গত ১২ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম। 

মামলার পরদিন হরিদাসকে আদালতে হাজির করা হলে ওই মামলায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। 

এর আগে ১২ জুলাই রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।