র‌্যাবকে এসআরবি নামে পুনঃস্থাপন বন্ধের দাবি

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) এসআরবি নামে পুনঃস্থাপন বন্ধ এবং নতুন করে জবাবদিহিহীন বিশেষ বাহিনী গঠন না করার দাবি জানিয়েছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির নেতারা। তারা বলেন, প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা সক্ষমতা পুলিশের বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কার্যালয়ে ‘র‌্যাব থেকে এসআরবি, কসাই বাহিনীর পুনর্বিন্যাস, গুম-খুনের নতুন বন্দোবস্ত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

জেএসডি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব। প্রধান আলোচক ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম। বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম, জেএসডির স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান রাজু, ডা. হেলালুজ্জামান ও শেখ নাসির।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শহীদুল্লাহ ফরায়জী।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রতিরক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থাকবে। তবে কোনও জল্লাদ, ঘাতক বা কসাই বাহিনী থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, এমন কোনও বাহিনী থাকা উচিত নয়, যেখানে আইন তার নৈতিক ভিত্তি হারায়, ক্ষমতা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে উঠে যায় এবং মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়।

সভায় র‌্যাবের ক্ষমতা, জনবল, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার এসআরবি নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা বন্ধের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে এসআরবির নামে জবাবদিহিহীন বিশেষ বাহিনী গঠন না করে পুলিশের বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা সক্ষমতা গড়ে তোলার দাবি জানান বক্তারা।

তারা প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিতর্কিত বিশেষ বাহিনীর কাঠামোতে ব্যবহার বন্ধ এবং গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

এ ছাড়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ সংশোধন করে গুমের অভিযোগ তদন্তের স্বাধীন ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হাতে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। প্রতিটি গ্রেফতার, আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ নথিবদ্ধ করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ওপর কার্যকর বিচারিক, সংসদীয় ও বেসামরিক নজরদারি নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।

প্রধান আলোচক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘সেনাবাহিনীর কোনও সদস্য অন্য কোনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অধীনে কাজ করার কথা নয়। ক্ষমতার কাঠামোর কারণে এসব বাহিনী ক্রমাগত ভয়ংকর হয়ে ওঠে।’

গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেকে এখনও সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছেন না দাবি করে তিনি নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বন্দিশালা স্থাপনের অভিযোগ করেন।

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে র‌্যাব নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। অথচ সেই র‌্যাবকেই আবার এসআরবি নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে নতুন বাহিনী তৈরি করছে।

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সদস্যদের পুলিশের কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হলে রাষ্ট্রে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। র‌্যাবের চেয়েও কোনও কোনও ক্ষেত্রে এসআরবিকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এমন কোনও আইন করা উচিত নয়।

সভাপতির বক্তব্যে তানিয়া রব বলেন, ‘রাষ্ট্রের নিয়মিত বাহিনী থাকার পরও যখন বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়, তখনই প্রশ্ন ওঠে।’

তিনি বলেন, ভয়ের সংস্কৃতি উপেক্ষা করে নতুন করে লড়াই শুরু করতে হবে।