ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে গ্রেফতার দেখানোর ঘটনায় আসকের নিন্দা

ঢাকার ধামরাইয়ে যুবলীগের এক কর্মীকে গ্রেফতারের জন্য তার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু তাকে না পেয়ে তার ৬০ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনকে গ্রেফতারের ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আসকের পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানা গেছে।

আসক বলছে, পুলিশ যুবলীগের কর্মী রিফাত আহমেদকে গ্রেফতারের জন্য তার বাড়িতে অভিযান চালায়। তাকে না পেয়ে তার বাবা কলিম উদ্দিনকে থানায় নিয়ে গিয়ে পরে একটি ‘পেন্ডিং মামলায়’ গ্রেফতার দেখানো হয়।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, কলিম উদ্দিনের নামে আগে কোনও মামলা ছিল না এবং তিনি আওয়ামী লীগের কোনও পদধারী নেতা নন। আওয়ামী লীগের সমর্থক— এই তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে। 

আসক মনে করে, আইন প্রয়োগের নামে পরিবারের একজন সদস্যকে খুঁজে না পেয়ে তার কোনও স্বজনকে গ্রেফতার করা কোনও সভ্য, গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একজন ব্যক্তির দায় অন্য ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের মৌলিক নীতির পরিপন্থি।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ ও আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ৩২ অনুচ্ছেদে আইনানুযায়ী ছাড়া কোনও ব্যক্তিকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত না করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তি (আইসিসিপিআর)-এর ৯ অনুচ্ছেদেও নির্বিচার গ্রেফতার ও আটকের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।  

উল্লেখ্য, অতীতের বিভিন্ন সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক কিংবা অন্য কোনও ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে নাগরিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হয়রানি, আটক ও গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে। আসক মনে করে, সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় আচরণের সংস্কৃতিরও পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। অতীতে যে ধরনের আটক, হয়রানি ও গ্রেফতারের সংস্কৃতি নাগরিকদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে, বর্তমান সরকারকে সেই সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে আসতে হবে।

এই প্রেক্ষাপটে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) দাবি করছে, মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ও আইনসম্মত অভিযোগ না থাকলে তাকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে।

একই সঙ্গে, পরিবারের কোনও সদস্যের রাজনৈতিক পরিচয় বা কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবারের অন্য কোনও সদস্যকে আটক, গ্রেফতার বা হয়রানি না করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানায় আসক।