বাংলাদেশে আসাটাই ভুল হয়েছে: নাশকতায় সম্পৃক্ততার সন্দেহে গ্রেফতার ভারতীয়

‘বাংলাদেশে আসাটাই ভুল হয়েছে’— নাশকতায় সম্পৃক্ততার সন্দেহে গ্রেফতার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলাম আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আদালতপাড়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ‘নাশকতার সঙ্গে তার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। তাকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে।’

সোমবার  (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর থেকে রবিউলকে আটক করে পুলিশ। পরে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার টিমের এসআই বিনয় কুমার রায়।

এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তবে আদালতের অনুমতি না নিয়ে ওকালতনামায় আসামির সই নেওয়ায় রবিউলের পক্ষে আইনজীবী রুবেল আহমেদ শুনানি করতে পারেননি।

শুনানির একপর্যায়ে বিচারক রবিউলের কাছে জানতে চান, তিনি কবে বাংলাদেশে এসেছেন। জবাবে রবিউল জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকায় আসেন।

তিনি কী কাজ করেন—বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে রবিউল বলেন, ‘আমি প্রায় বাংলাদেশে আসি। এখানকার বন্ধুদের গার্মেন্টস বিজনেস আছে। তারা মাল পাঠায়। আমি সেগুলো দেখভাল করছি। গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।’

এ সময় বিচারক তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, রবিউলের ভিসা আছে কী না। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, তার ভিসা রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, রবিউলের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্মতারিখের সঙ্গে পাসপোর্টের জন্ম তারিখের মিল নেই। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এলোমেলো তথ্য দিচ্ছেন বলেও জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

পরে আদালত রবিউলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ।

এদিকে ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে এজলাসে নেওয়ার সময় রবিউল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে গ্রেফতার করার মতো কিছু নেই। আমি অনেকবারই ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছি। এখানে আমার প্রচুর বন্ধু-বান্ধব আছে। আমি গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমি অহেতুক হ্যারেজ হচ্ছি। উনারা যা যা বলছেন, কিছুই পায়নি। ইন্ডিয়ার ‘র’ এজেন্টের সঙ্গে জড়িত কি না সন্দেহ করছেন। আসলে আমি এমন কিছু না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সাধারণ ফ্যামিলির ছেলে। আমার পরিবারের সবাই চাকরিজীবী। কেউ স্কুল মাস্টার, কেউ পোস্ট অফিসে চাকরি করে। নাশকতার সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা নাই। গ্রেফতারের পর আমাকে ফ্যামিলি বা বাংলাদেশের কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে দিচ্ছে না। এখন তো দেখছি বাংলাদেশে আসাটায় ভুল হয়েছে।’

রিমান্ড আবেদনে পুলিশের বক্তব্য

রবিউল ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন উল্লেখ করে তার গতিবিধি সন্দেহজনক বলে রিমান্ড আবেদনে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, রবিউল পাসপোর্ট দেখিয়ে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করেন। পরে তার ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, রবিউলের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখের সঙ্গে পাসপোর্টের জন্ম তারিখের মিল নেই। তিনি এর আগে অনেকবার বাংলাদেশে ভ্রমণ করলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছেন বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ধারণা করা হচ্ছে, আসামি বাংলাদেশে কোনেও ধর্তব্য অপরাধে জড়িত আছেন। সম্প্রতি ঢাকা শহরসহ সারা দেশে নাশকতায় তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রবিউল ইসলামের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার গৌড়ি ভোজ গ্রামে। তার বাবার নাম শহীদুল ইসলাম।