সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে দুই শতাধিক ব্যক্তি কেন্দ্রটির নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় টিকা, সরকারি রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন সরঞ্জাম, ওষুধ, ভ্যাকসিনসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি ও নগদ অর্থ রয়েছে। নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা লুট হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কর্মকর্তাদের ধারণা, ১০ কাঠা জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক মানুষ এখান থেকে সেবা নেন। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মা, শিশু, কিশোর-কিশোরী ও বয়স্করা এই সেবার ওপর নির্ভরশীল। ভাঙচুরের পর তারা আর সেবা নিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, ‘২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে সমমনা সমবায় দোকানদার সমবায় সমিতি নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই সেন্টার দখলের চেষ্টা করে। আমাদের নৈশপ্রহরীদের মারধর করে বেঁধে রাখা হয়। তাদের মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে নেওয়া হয়। পরে হ্যামার, বেকু, লাঠিসোঁটা ও অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে পুরো সেন্টারে ভাঙচুর চালানো হয়।’
ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ১৯৭৬ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সেবা দেওয়ার অধিকার পায় রাড্ডা। এরপর সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জেনারেটর, চারটি এসি, চারটি ফ্রিজ, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট ও ইন্সট্রুমেন্ট ছিল। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটির বেশি হবে। আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছি, তারা আশ্বস্ত করেছেন।’
প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মী জানান, আগে থেকেই কয়েকটি গ্রুপ জায়গাটি দাবি করে আসছিল। তবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, সে বিষয়ে তারা আগে কোনো খবর পাননি। তার দাবি, সমমনা সমবায়ী সমিতির দোকান মালিক সমিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই এ ঘটনায় জড়িত। তবে কারও নাম সরাসরি বলতে চাননি তিনি।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তবে হামলার ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিরপুরের বিএনপি নেতা হানিফ মিয়া। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় জড়িতই না। আমি জানিই না, সেখানে কী হয়েছে। আমার নাম আবার কে দিল মামলায়? এ বিষয়ে থানায় খোঁজ নেবেন।’