সেই ভারতীয় নাগরিক ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

নাশকতায় সম্পৃক্ততার সন্দেহ, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্মতারিখের ভিন্নতা এবং অসংলগ্ন তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক রবিউল ইসলামকে ফের চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত বুধবার ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের এসআই বিনয় কুমার রায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

চার দিনের রিমান্ড শেষে রবিবার তাকে আদালতে হাজির করে ফের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে রবিউলের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই ও তার সঙ্গে জড়িত অন্য বিষয় সম্পর্কে জানতে তাকে ফের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে আসামিকে আরও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাই।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তারা বলেন, রবিউল বৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। ইতোমধ্যে তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়ার পরও কোনও অগ্রগতি নেই। তাই একইভাবে আবার রিমান্ড চাওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আদেশ পর্যালোচনার জন্য কিছু সময় নেন। পরে আদালত রবিউল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার রিমান্ড আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রবিউল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়ি ভোজ গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে তাকে আটক করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, রবিউল গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন। এরপর তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করে তিনি প্রথমে পাসপোর্ট দেখান। পরে তার কাছে থাকা ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি যাচাই করে জন্মতারিখে অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, রবিউল এর আগেও একাধিকবার বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করেছেন। তবে এসব সফরের সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি জানাতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়ে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া রবিউল বাংলাদেশে কোনও ধর্তব্য অপরাধ এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, তা নিয়ে প্রবল সন্দেহ রয়েছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেছে পুলিশ।