রাজাধানী ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গ্রেফতার চার আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহআলী থানার এসআই মো. আতোয়ার রহমান চার আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০)।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের পক্ষে কোনও জামিনের আবেদন করা হয়নি।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, গ্রেফতার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়েও তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তারা শাহআলী থানার বাসিন্দা নন। এ কারণে তাদের দেওয়া নাম-ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আবেদনে আরও বলা হয়, আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারেন এবং পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে শাহআলী থানা এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করেন। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও মো. আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে হ্যামার দিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে তারা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর পূর্ব পাশের একটি সেমিপাকা ঘর, পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমিপাকা ঘর এবং ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের সেমিপাকা ঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। এসব ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতিও ভাঙচুর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠানে সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শুক্রবার শাহআলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা কারা?