রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম (২৪) নিহতের মামলায় ১৭ বছরের এক কিশোরের জামিনের বিষয়ে অধিকতর শুনানির জন্য আগামী ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে কিশোরের জামিনের বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে অধিকতর শুনানির জন্য আগামী ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয় বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুল ইসলাম।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দেয়। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বুধবার গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হলেও ওই কিশোরের নাম এজাহারে ছিল না।
পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হলে বুধবার ওই কিশোরকে গ্রেফতার করে গুলশান থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আরেফীন ইসলাম। আদালত তাকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরপর ওই কিশোরের আইনজীবী আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপসের কথা হয়েছে। পরে কিশোরের জামিন আবেদন করা হয়।
রবিবার জামিন শুনানিতে কিশোরের পক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা খান, আইনজীবী আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী অংশ নেন।
শুনানিতে অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা খান বলেন, মামলার বিষয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতা হয়েছে। কিশোরের নাম এজাহারে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিহতের পরিবারকে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কিশোরের বয়স বিবেচনায় তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
এ সময় বিচারক বলেন, মামলায় যে ধারা দেওয়া হয়েছে তা জামিনযোগ্য বা আপসযোগ্য নয়। মামলাটি জামিন অযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনজীবীরা কিশোর বিবেচনায় জামিন দেওয়ার আবেদন করলে বিচারক বলেন, নথি দেখে আদেশ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সেদিন আদেশ নাও হতে পারে।
এ সময় আইনজীবীরা জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত রয়েছেন এবং জামিন হলে তাদের আপত্তি নেই। পরে নিহতের বাবা, বড় ভাই ও মামা আদালতের সামনে উপস্থিত হন।
বিচারক বলেন, ‘ঘটনাটি অনেক গুরুতর। একটি সমাজ ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। যদিও এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান নেই, তবুও ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।’
পরে কিশোরের পক্ষের আইনজীবীরা অধিকতর শুনানির জন্য সময় চান। শুনানি শেষে আদালত আগামী ৪ অক্টোবর জামিনের বিষয়ে অধিকতর শুনানির দিন ধার্য করেন।