মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আরও ৬ জন কারাগারে

ঢাকার মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচের কার্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার আরও ছয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই লুৎফুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন, শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, শাহ আলম, আতিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম ও শাকিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আতোয়ার রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে মুহাম্মদ এমরান জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তবে তিনি আগামীকাল সোমবার জামিন শুনানি করতে চান। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়ে আগামীকাল সোমবার জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।

এর আগে শনিবার মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০) নামে চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে তারা ৫০ বছর ধরে গরিব, অসহায় মা ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ওই সংস্থাটির কার্যালয়ের একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’-এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে চলে যান।

সংস্থাটির অভিযোগ, হামলার সময় তাদের অফিসের সামগ্রীসহ টিকাদানের প্রচুর সামগ্রী লুটপাট হয়েছে।

এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেন রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০/২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, হাতুড়ি, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন একদল লোক। তারা নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও মো. আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখেন। তারা এক্সকাভেটর নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে একটি সেমিপাকা ঘর, পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমিপাকা ঘর এবং ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের সেমিপাকা ঘর ভাঙচুর করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি ও স্টিলের আলমারি নিয়ে যান তারা। নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে সেখানে সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যান হামলাকারীরা।