রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এলাকায় একটি আটতলা বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দেশি অস্ত্র নিয়ে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল বাড়িটিতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিকের স্বজনরা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হামলাকারীরা বাড়িটির মূল ফটকে চাপাতি ও রামদা দিয়ে কোপায়। এ সময় সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালার কাচও ভাঙচুর করা হয়।
বাড়ির মালিক আমিনুর রহমান খানের ভাতিজা মনির হোসেন রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির মূল ফটক খুলে সবাইকে বের হয়ে যেতে বলে। ভেতর থেকে কেউ বের না হলে তারা বাইরে থেকে টাকা দাবি করে হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে চাপাতি ও রামদা দিয়ে গেটে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা গেটের সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে। পরে ইটের টুকরা দিয়ে দ্বিতীয় তলার আরও দুটি জানালার কাচ ভেঙে ফেলে। বাড়িতে হামলার পর ভাড়াটিয়ারা নিচে নেমে এলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
মনির হোসেনের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একবার বাড়িটি দখল করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, ওই বছরের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নেন। পরে আদাবর থানায় অভিযোগ দিয়েও সমাধান না হওয়ায় তারা আদালতে মামলা করেন। গত ১২ মার্চ আদালতের মাধ্যমে বাড়িটির দখল ফেরত পান তারা।
এ বিষয়ে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদাবরে বাড়ি দখল ও অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
তিনি বলেন, আমিনুর রহমান ও খোরশেদ আলমের মধ্যে বাড়িটি নিয়ে মামলা ছিল। এর আগে বাড়িটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দখলের ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুপক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছিল, তবে তারা আসেননি।
ওসি আরও জানান, শনিবার বাড়িতে হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।