বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের তিন মামলায় ছানোয়ার-মাঞ্জিল গ্রেফতার 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় টাঙ্গাইল-৫ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

একইসঙ্গে মিরপুর ও শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা পৃথক দুটি হত্যা চেষ্টা মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও বরখাস্তকৃত মেজর মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলামের আলাদা আদালত এ আদেশ দেন।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নথিসূত্রে জানা যায়, ছানোয়ার হোসেন বর্তমানে অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানোর জন্য তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আমিনুর রহমান আদালতে আবেদন করেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশি তদন্ত সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সরকারের নির্দেশে এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা চালানো হয়। গত ৫ আগস্ট সকালে ভাটারা থানাধীন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠি, লোহার রড, হকিস্টিক ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে মামলার বাদী সোহেলী তামান্নাসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

অন্যদিকে, গত ১৮ জুলাই শেরেবাংলা নগর থানাধীন ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুলের সামনে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যদের আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহার ও পুলিশি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামিদের হুকুমে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল, পিস্তল, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠিসোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় এক আন্দোলনকারী দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে একাধিক বুলেট বের করা হয়।

এ ছাড়া গত ৫ আগস্ট বিকেলে মিরপুর মডেল থানার কাছের প্রধান সড়কে হাজার হাজার ছাত্র-জনতার মিছিলে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, ছররা গুলি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় মইনুল ইসলাম তুর্য নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে তাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে দুটি ঘটনাতেই সাবেক মেজর মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীর সম্পৃক্ততা এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে মিরপুর মডেল থানার অন্য একটি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। দুটি মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।

নথিসূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও বরখাস্তকৃত মেজর মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে একাধিক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।