জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ২৭ জনকে জামিন দেয়নি আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার সোমবার শুনানি নিয়ে জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন। বিচারক বলেছেন,‘এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাসুম মিয়া জামিন নামঞ্জুরের তথ্য দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন, দিদারুল আলম তুহিন, ইমান আহমেদ ইমন, মোল্লা মো. শাহজাহান সিরাজ, জয় সরকার, মিরাজ আহমেদ, মিরাজ মালিথা, রবিউল ইসলাম, মিলন কুমার মহন্ত, কাউসার হোসেন, শ্রী অঞ্জন শীল, জালাল উদ্দিন মন্ডল, আব্দুল লতিফ, শামীম আহমেদ, আহম্মেদ আহসান হাবিব, সুজন আলী, তসিকুল ইসলাম, সাইফুল্লাহ সায়েক, নয়ন আলী, সাজিদুল ইসলাম তুহিন, তাজুল ইসলাম, নিষ্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, আলমগীর হোসেন, আল আমিন হাওলাদার, তুষার আলী, রাসিদুল হক ও মীর মুক্তিসুর রহমান।
ঢাকার গুলিস্তানে জাসদের প্রধান কার্যালয়ে শনিবার বিকাল অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ জনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
অভিযান শেষে সন্ধ্যায় পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, “আমি নির্দিষ্ট সংখ্যাটা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না, তবে সংখ্যাটা ২৮০ থেকে ৩০০ জনের কাছাকাছি হবে।”
শনিবার দুপুর ৩টায় দলটির কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরপর একের পর এক প্রিজন ভ্যান এনে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা লোকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পল্টন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ জনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। মুক্তি দেওয়া হয় বাকিদের।
পল্টন মডেল থানার এসআই নাজমুল ইসলাম রোববার ২৭ জনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামিরা জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে 'জয় বাংলা' শ্লোগান দিয়ে অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে।
“পল্টন মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় উপস্থিত লোকজনের সহযোগিতায় শনিবার বিকাল ৪ টা ১০ মিনিটের দিকে তাদের আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনাস্থলে আসার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারে নাই।”
আসামিরা কোনও ‘ধর্তব্য অপরাধে’ জড়িত থাকতে পারে আবেদনে বলা হয়। আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তবে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে জামিন শুনানির দিন রাখেন সোমবার।
এ দিন আসামিদের আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত, তাছলিমা জাহান পপিসহ কয়েকজন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও হারুন-অর-রশীদ জামিনের বিরোধীতা করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেয়।