জন্মদিনের আয়োজন, নাকি নাশকতার প্রস্তুতি? ১৫ জনের রিমান্ড

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেফতার ১৫ জনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত ১৪ আসামিকে তিন দিন এবং ফারজানা (২১) নামে অপর আসামিকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ডে যাওয়া ১৪ আসামি হলেন—মো. ইয়াকুব হোসাইন রাজিব (২৬), আরাফাত মিয়া (২২), রিফাত হাওলাদার (১৯), হৃদয় হাসান (২১), ফাহিম (১৯), রাজিব হোসেন রানা (২৪), মো. ফিরোজ (২৬), মো. আরিফ (২৮), মো. ওমর ফারুক (২১), আব্দুল্লাহ আল আমান (১৯), মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান (২১), মো. সোহানুর হোসেন শাহীন (২২), মো. হাসিব (১৯) ও মো. হাসিব মিয়া (২৩)।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহিনসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের পক্ষে শুনানি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতে বলেন, আসামিরা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য একত্রিত হয়েছিলেন। তারা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহিন বলেন, আসামিরা শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা ও মিলাদ মাহফিলের জন্য একত্রিত হয়েছিলেন। এটি কোনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হতে পারে না বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে সোমবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কে সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক ইকবাল হোসেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা এবং রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধ্বংসের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় একটি কক্ষের টেবিলের ড্রয়ার থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়ন কমিটির পদপ্রত্যাশী ২০ জনের নাম ও জীবনবৃত্তান্তসংবলিত ২০ পৃষ্ঠা কাগজ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও দাবি করেছে, উদ্ধার করা কাগজপত্রে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের লোগো, শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা ছিল।

এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন, মূলহোতা ও নেতৃত্বদানকারীদের শনাক্ত, অর্থের জোগানদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়।