পিকআপচালক হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

বছর তিনেক আগে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় পিকআপচালক আসাদুল ইসলাম নামের এক যুবককে হত্যার দায়ের রাজু হাওলাদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অনিক হাসান ওরফে শান্ত, সজল মিয়া, কাউছারকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ১৬ নম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নীপু এ রায় দেন।  

সাজার তথ্য নিশ্চিত করে আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার সাফি নেওয়াজ নাসির বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি রাজুকে ৫০ হাজার টাকা অর্থ, যাবজ্জীবর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।’ 

আসামিদের মধ্যে রাজু কারাগারে রয়েছেন। রায় ঘোষণার আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর তথ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী মাহমুদুর রহমান সুইট। তিনি বলেন, ‘অপর তিন আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক হয়েছেন।’ 

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় ২০২৩ সালের ১৩ জুন রাত সাড়ে ৯টার গাড়ি চালানো শেষ করে হাজারীবাগ থানার ঢাকা ট্যানারী মোড়ে গাড়ি পার্কিং করে বাসায় ফিরছিলেন আসাদুল। রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে আরএস পাম্পের কাছে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। রাস্তায় পড়ে যান আসাদুল। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ জুন মারা যান আকিদুল। 

এ ঘটনায় আকিদুলের বাবা মোন্নাফ মিয়া ১৯ জুন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত এই চার আসামিকে অভিযুক্ত করে হাজারীবাগ থানার এসআই কমল কৃষ্ণ সাহা ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। 

তদন্তে উঠে আসে, আরএস পাম্পের কাছে পৌঁছালে চার আসামি আকিদুলের কাছে মোবাইলসহ যা যা আছে দিয়ে দিতে বলে। কিন্তু সে দিতে না চাইলে রাজু ছুরি দিয়ে আকিদুলের বুকে আঘাত করে। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তারা আকিদুলের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। 

২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। মামলার আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আসামিদের সাজার রায় এলো।