ঢাকার সাভারে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সদস্য মো. আলতাফ হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেফতার জুনায়েদ আহমেদ জিল্লু (২৩)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির আল আহসান জিল্লুকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ হোসেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি দেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জিল্লুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের বড়দেশী পশ্চিমপাড়ায় আবুল কালাম আজাদের অটোরিকশার গ্যারেজের সামনে অটোরিকশা রাখা নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে বিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি থামাতে গেলে আলতাফ হোসেন আসামিদের তোপের মুখে পড়েন।
পরে প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ তার ছেলে আরিফুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশনে’ আশ্রয় নেন। রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে আলতাফের ওপর হামলা চালায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীরা রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে আলতাফ হোসেনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।
এ ছাড়া হামলাকারীরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি এবং ক্যাশ থেকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে আহত আলতাফ হোসেন ও আরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আরিফুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত আলতাফ হোসেনের স্ত্রী শিউলী পারভীন ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামিদের গ্রেফতার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য জিল্লুকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।